দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে ডুবে যাওয়ার ১৬ ঘন্টার পর আত্রাই নদী থেকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী তাসফিক হোসেন’র (২১) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ জুন বিকেল সাড়ে ৪টায় আত্রাই নদীর ব্রিজের নিচে বন্ধুদের সাথে রাবার ড্যামে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন তাসফিক হোসেন।

বুধবার (১৯ জুন) সকাল ৮টায় আত্রাই নদীর রাবার ড্যাম থেকে ২০০ গজ দূরে তার লাশটি ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা লাশটি উদ্ধার করে। নিহত তাসফিক হোসেন হাবিপ্রবি’র পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি চাঁদপুর জেলার রূপসা থানার জামালপুর গ্রামের মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন’র ছেলে।

হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, প্রচন্ড গরমের কারণে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার সময় হাবিপ্রবি’র ৯ জন শিক্ষার্থী সদর উপজেলার মোহনপুরে আত্রাই নদীর ব্রিজের নিচে রাবার ড্যামে গোসল করতে নামেন। গোসল করার সময় তাদের সহপাঠী তাসফিক হোসেন নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে তারা ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল বিকেল সাড়ে ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে নামেন। কিন্তু পানি বেশি হওয়ায় তারা নিখোঁজ তাসফিককে উদ্ধার করতে পারেনি।

পরে রংপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এসে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু তারাও লাশ উদ্ধার করতে না পারায় রাত ১২টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেন। পরে বুধবার ১৯ জুন সকালে তাসফিকের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা তাসফিক হোসেন’র লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসফিক হোসেন’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোক বার্তায় বলা হয়, সদর উপজেলার মোহনপুর আত্রাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে রাবার ড্যামে পানির স্্েরাতের কবলে পড়ে অকাল মৃত্যুবরণ করে। তার এ অকাল মৃত্যুতে হাবিপ্রবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

বুধবার দুপুর ১২টায় তার লাশ বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসলে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুর সোয়া ১২টায় বিশ^বিদ্যালয় শেখ রাসেল খেলার মাঠে তার প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

হাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম মেধাবী ছাত্র তাসফিকের মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোক বার্তায় তিনি তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সদা হাস্যোজ্জ্বল মোঃ তাসফিক হোসেন ১৯৯৭ সালে ১২ নভেম্বর চাঁদপুর জেলার রূপসা থানার জামালপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন, মাতা তাহমিনা সুলতানা’র তিন সন্তানের মধ্যে তাসফিকই ছিলেন বড়।

শিক্ষা জীবনে তাসফিক নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, চট্টগ্রাম মডেল কলেজ থেকে ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে দিনাজপুর হাবিপ্রবি’র বিজ্ঞান অনুষদে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য