বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনের টিনশেড ভেঙ্গে যে কোন সময় শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়তে পারে। নেই বাড়তি কোন কক্ষ, তাই বিদ্যালয়ের পুরো একটি শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করতে হয় বিদ্যালয় মাঠে। আবার দু’টি কক্ষে জরাজীর্ণ টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে জামা-কাপড়, বই-খাতা সব ভিজে যায়।

শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেও গ্রহণ করা হয়নি কোন উদ্যোগ। আর শিক্ষা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার উত্তর মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ টিনশেড, তার উপর ফুটো। কাঠগুলোও ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। নামফলকটি পর্যন্ত নেই, যাতে কোন ভাবেই বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, এই বিদ্যালয়ে ষষ্ট থেকে দশম পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪৭ জন। কিন্তু সেই তুলনায় নেই শ্রেনী কক্ষ। তাই গাদা গাদি করে পড়ালেখা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। ৫টি শ্রেনীকক্ষের মধ্যে একটি কক্ষের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, যেকোন মুহুর্তে শিক্ষার্থীদের উপর ভেঙ্গে পড়তে পারে। এই আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদেরকে মাঠে পাঠগ্রহণ করতে হয়। যাতে করে তাদের পড়া লেখার ক্ষতি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, বিদ্যালয়ের দু’টি কক্ষের টিন ফুটো হয়ে গেছে। বর্ষার দিনে পানি পড়ে জামা-কাপড়, বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়, বন্ধ থাকে পাঠদান। শিক্ষার্থীর চেয়ে শ্রেনীকক্ষে স্থান সংকুলান, বসার ব্রেঞ্চ সহ নানাবিধ সমস্যাও রয়েছে। তাই সুষ্ঠুভাবে পাঠগ্রহনে বিদ্যালয়ের যাবতীয় সংকট নিরসনের দাবি শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দ্বিনেশ চন্দ্র দেবশর্মা বলেন, গুনগত মান ভাল হলেও অবকাঠামো খারাপ, যাতে বাধ্য হয়েই মাঠে পাঠদান করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষকরা। আবার বৃষ্টির সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পর পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী জানান, প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবিএম রওশন কবীর জানান, আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি, মাঠে পাঠদানের বিষয়টি জানা নেই। তবে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রেনীকক্ষ নির্মাণ করাসহ সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৯৩ সালে স্থাপিত উত্তর মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন। মেয়েদের কমনরুমসহ শ্রেনীকক্ষ রয়েছে ৬টি। যদিও শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিটি শ্রেনীর শাখা খোলার অনুমতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য