আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টায় হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিমাপ করে দেখেছে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, তিস্তা ব্যারাজের উজানে পানির বিপদসীমা নির্ধারণ করা আছে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ব্যারাজ এলাকায় পানি ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা পাড়ের লোকজন জানান, হঠাৎ ঢলে তিস্তার দুইধারে বসবাসরত মানুষের কিছু ঘর-বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে।

তারা আরও জানান, সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজের উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের জলকপাটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এতে ভাটিতে লালমনিরহাট অংশে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেছে।

দহগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রায় পানিশূন্য তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দহগ্রাম ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দেড় থেকে দুইশ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

এদিকে হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নও তিস্তার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যায়নি।

তিস্তা নদীর পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ জানান, ‘ভারত পানি ছেড়ে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে পানিপ্রবাহ রয়েছে, অর্থাৎ ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটারের ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানিপ্রবাহিত হচ্ছে। যেখানে তিস্তা ব্যারাজের উজানে ১৭ জুন পানিপ্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তায় পানিপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে। এজন্য তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য