হাকিমপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের হাকিমপুরে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে অধিকতর জরিপ কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।

কুপখননের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে খনিজ পদার্থের অবস্থান ও পরিমাণ। ভূ-তাত্বিক জরিপ দল বলছে, জরিপে আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া গেলে বাংলাদেশের মধ্যে এটিই হবে প্রথম খনিজ পদার্থের খনি। আর এটি আলোর মুখ দেখলে সৃষ্টি হবে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান।

হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইসবপুর গ্রাম। গ্রামের মধ্যেই চলছে খনিজ পদার্থের খনি আবিস্কারের মহাযঞ্জ। ২০১৩ সালে এই গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কুপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর।

সেখানে ১৫’শ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় মূল্যবান ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া যায়। আর ১২’শ ফুট গভীরতায় পাওয়া যায় চুনা পাথর। যা অন্যান্য জায়গার গভীরতার চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম গভীরে।

সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ৬ বছর গবেষণা করে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় সম্প্রতি ইসবপুরে দ্বিতীয় জরিপে কুপ খনন করে কাজ শুরু করে ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের ৩০ সদস্যের একটি দলটি। ৩ শিপ্টে এই কাজ পরিচালনা করছে বিশেষজ্ঞ এই দলটি।

স্থানীয় মনসপুর দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, খনির সন্ধান নিশ্চিত হলে এবং এর কার্যক্রম মাঝপথে থেমে না গেলে কর্মসংস্থান হবে এখানকার মানুষদের। তেমনি পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানও। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)র উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৪’শ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। আর একারণে এখানে আগ্নেয়শিলার অবস্থান থাকায় খনিজ পদার্থের খনির সম্ভাবতা রয়েছে। তাই আশার আলো দেখছেন তারা।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)র ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপ-পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, গত ২১ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে খনিজ সম্পদের মজুদ, বিস্তৃতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ভূ-তাত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ড্রিলিং কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১৭৬০ ফিট ড্রিলিং করা হয়েছে। এরমধ্যে যেসব উপদান তাতে আশা করছি এখানে ভাল কিছু পাওয়া যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য