ভারতের অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির নামে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল অর্ডারে ১০ ও ১৭ নম্বর উপদফা সংশোধন না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘আমসু’। অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আমসু) উপদেষ্টা আজিজুর রহমান ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আজিজুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি ন্যায়াধিকরণের যে প্রক্রিয়া তাতে নিশ্চিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভাষিক সংখ্যালঘুরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাদের এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপরে কোনও আস্থা ও ভরসা নেই। কারণ ইতিপূর্বে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা পক্ষপাতমূলক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পালন করছেন।

অসম সরকার যদি নিরপেক্ষ না হয়, সরকার যদি নির্দেশিকা না দেয় তাহলে এরকম হতে পারে না। বিদেশি ন্যায়াধিকরণ ব্যবস্থা যদি বিচার ব্যবস্থায় উন্নীত করা হয় তাহলে রাজনৈতিক ও সরকারের প্রভাব মুক্ত হবে। এরফলে নিশ্চিতভাবে বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা নিরপেক্ষ হবেন। এজন্য সরকারের কাছে ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে আমাদের অনুরোধ উনি এতে হস্তক্ষেপ করে নাগরিকত্বের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজনৈতিক ও সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে পদক্ষেপ নিন।’

আমসু উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, ‘১৯৬৪ সালের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল অর্ডার সম্প্রতি সংশোধন করে ট্রাইব্যুনালকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গত ৩০ মে এক আদেশে এর ১০ নম্বর উপদফায় বলা হয়েছে, কেউ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে তার ভিত্তি আছে কী না তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল। মামলার ভিত্তি থাকলে তবেই শুনানির দিন ঠিক করে ডাকা হবে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের সদ্যস্যরা ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হওয়ায় আবেদনের ভিত্তি নেই বলে তা খারিজ করে দিতে পারেন।

সেজন্য ওই উপদফার সংশোধনী চেয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে ১৭ নম্বর উপদফায় বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলোকে ‘নিজস্ব পদ্ধতি’ অবলম্বনের যে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে তা বিপজ্জনক হতে পারে। যদি তিনশ’ ট্রাইব্যুনাল থাকে তাহলে তিনশ’ রকম নিয়ম না হয়ে যায়! এজন্য ‘ইউনিফর্ম কোড’ থাকা প্রয়োজন। আমাদের দাবি ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল প্রসিডিওর কোড’ নির্ধারণ করতে হবে যাতে ওই কোড অনুযায়ী প্রত্যেক ট্রাইব্যুনাল কাজ সম্পাদন করবে।’

আজিজুর রহমান বলেন, ‘১০ ও ১৭ নম্বর উপদফা সংশোধনের দাবি যদি না মানা হয় তাহলে আমরা গণআন্দোলন করব। একজন একজন করে শনাক্তকরণ না করে, ডিটেনশন ক্যাম্পে না ঢুকিয়ে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজন একজন কেন? আমরা যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভাষিক সংখ্যালঘু সন্দেহের আবর্তে আছি তাহলে আমরা সবাই একত্রিতভাবে একসঙ্গে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প ভরো’ আন্দোলন শুরু করব। যদি তাতেও আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে আমরণ অনশন কর্মসূচি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
-পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য