দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে গেলেও কেউ খোঁজ রাখে না বিএনপি-জামায়াতসহ জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের লড়াকু সৈনিক যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজানের (৪৫)। পায়ে হেঁটে পথচলার শক্তি হারিয়ে ফেলায় নিত্যদিনের সঙ্গী এখন হুইল চেয়ার এবং ক্র্যাচ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি মিজান উপজেলা পৌর এলাকার বারোকোনা স্টেশনপাড়া মহল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মরহুম আবদুস সামাদের একমাত্র ছেলে। মা মরোয়ারা বেগম, স্ত্রী মোছা. মোরশেদা বেগম, বড় ছেলে মাহিন সরদার মনি তাওহীদ (৬) ও ছোট ছেলে মোরসালিনকে (২) নিয়ে তার পরিবার।

১৯৯০সালে স্কুল অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির যাত্রা শুরু মিজানের। স্কুল জীবনেই স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নসহ জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হুমকি আর নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

গত ২০ মার্চ নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে নওগাঁয় যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যুবনেতা মিজানের বাম পা পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়। ডান পায়ের হাড্ডি ফেটে যায় তার স্ত্রী মোরশেদা বেগমের। তবে ভাগ্যক্রমে দুর্ঘটনার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যায় তার আদরের দুই ছেলে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে সিভিল সার্জন অর্থপেডিক্স সার্জারী চিকিৎসক মো. আবদুল বারীর অধিনে দীর্ঘ একমাস চিকিৎসার পর স্বাভাবিক নিয়মে নয়, হুইল চেয়ারে ভর করে বাড়ি ফিরেছেন। হুইল চেয়ার ও ক্রেচই তার নিত্যসঙ্গী। ওই দুর্ঘটনায় চিকিৎসা চালাতে সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।

বর্তমানেও চিকিৎসা ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনায় শরীরের শক্তি কিছুটা হ্রাস পেলেও মনের শক্তি অটুট থাকলেও শরীরের শক্তিটুকু হারিয়ে ফেলতে বসেছেন। বর্তমানে এক স্থান থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে অন্য স্থানে গিয়ে খাবেন পায়ে হেঁটে সামান্য পথটুকু পাড়ি দেওয়ার মতো শরীরের শক্তিটুকুও নেই। হুইল চেয়ার আর ক্র্যাচই তার নিত্যসঙ্গী। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ধন-সম্পদ দিয়েই দলের একজন কর্মী হিসেবে সারা জীবন কাজ করার জন্যই তিনি চাকরি কিংবা ব্যবসা-বানিজ্যের দিকে নজর দেননি।

পঙ্গুত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুবলীগ নেতা মিজান বলেন, জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্যই পরিবারের প্রতি তেমন নজর দিতে পারেননি। দলের ক্রান্তিকালে মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতাকর্মীদের সাহস ও শক্তি যোগানোর জন্য ছিলাম রাজপথে।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে পড়ে থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুুবলীগ কিংবা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পর্যায়ের কোন নেতা দেখতে কিংবা খোঁজ নেননি এখন পর্যন্ত। স্থানীয় কোন নেতাকর্মীর সহযোগিতা চান না, সহযোগিতা চান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, জাতির পিতার আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী কাছে আবেদনও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেলে তিনি কৃতার্থ থাকবেন তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কাছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য