মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শেষ প্রান্তে এসে প্রখর রোদ আর তীব্র তাপদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দিনের প্রথম প্রহরে বাইরে বের হওয়া গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে সহ্য সীমা অতিক্রম করায় রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা একেবারে নেই বললেই চলে।

একান্ত বাধ্য হয়ে যারা বের হচ্ছেন তারাও ঘেমে একাকার হয়ে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ছেন। গাছের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে একটু স্বস্তি পেতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন পথে চলাচলকারীরা। বাসা-বাড়িতে অবস্থানকারীরাও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ঘাম ঝড়ছেন গৃহিনীরা। সে সাথে গরম থেকে বাঁচতে ঠান্ডা পানীয় পান করার মাত্রা বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে।

এর ফলে পানিজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ একমাস রোজার পর ঈদের দিন থেকে হঠাৎ করে খাওয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পেটের নানা পীড়ার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া রোগে। গত ২ দিনে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর উপচেপড়া ভীড় লক্ষ করা গেছে।

অতিরিক্ত রোগীদের সেবা দিতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম অবস্থায় পড়েছেন। জানা যায়, গত ৭ জুন শুক্রবার এবং ৮ জুন শনিবার নীলফামারীর সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রী ও ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। সারাদিন প্রখর রোদ বিরাজ করায় তাপের তীব্রতায় নারী-শিশুসহ বয়স্ক লোকজন স্বর্দি-কাশি, জ¦রসহ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

গত দুই দিনে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া, পেটের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আরিফুল হক সোহেল জানান, হঠাৎ করে বিরুপ আবহাওয়া এবং রোজার পর খাওয়ার ক্ষেত্রে অসাবধানতার কারণে মানুষের মাঝে পেটের পীড়াসহ পানি জনিত নানা রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর মধ্যে নারী-শিশু ও বয়স্ক রোগীই বেশি। এ পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া বা অন্যান্য পেটের পীড়া থেকে রেহাই পেতে বিশুদ্ধ পানি পান সহ খাওয়ার ক্ষেত্রে চর্বিদার, বাসি, গুরুপাক খাবার গ্রহন পরিহার করতে হবে। সে সাথে ডাবের পানি, লেবুর রসের সরবত বা আখের রস পানসহ স্যালাইন পান করা উচিত। এতে শরীরের পানি স্বল্পতা রোধ পাবে এবং আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য