আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধায় জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় পৌর শহীদ মিনার চত্বরে বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিনব্যাপী জলবায়ু মেলা শুরু হয়েছে। মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন।

মেলার উদ্বোধনী দিনে মেলা চত্বরে গ্রামীণ লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই মেলায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পৌর পার্কে ৩১টি স্টল খোলা হয়েছে। এ সমস্ত স্টলে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা, সচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কিত লিফলেট প্রদর্শিত হয় ও বিতরণ করা হয়।

মেলা চত্বরে দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিকর প্রভাব, প্রকৃতি, বন্যা, নদী ভাঙন, জল্লোচ্ছাস’ বিষয়ক চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতা। এছাড়া মেলায় প্রজেক্টেরের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তৈরী ডকুমেন্টরী প্রদর্শন করা হয়। গাইবান্ধা জলবায়ু পরিষদ এই মেলার আয়োজন করে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্বে জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাড. জিএসএম আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এসএম ফেরদৌস, প্রদীপ কুমার রায়, রৌফা খানম, কামারজানি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির গাইবান্ধা জলবায়ু পরিষদের আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর দিলরুবা পারভীন ঝর্না প্রমুখ।

দ্বিতীয় পর্যায়ে শহর সংলগ্ন এসকেএসইন এ গাইবান্ধা সদর উপজেলার জলবায়ু বিপন্নতা ও অভিযোজন অগ্রাধিকার বিষয়ক- মাল্টি স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কনসালটেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, জলবায়ু পরিষদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় মেলা চত্বরে ‘কার্যকর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্থানীয় ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব ও সচেনতনা বিষয়ক একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারী কর্মকর্তা, পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ জলবায়ু পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া মেলা চত্বরে সন্ধ্যার পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য