আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ বিয়ে হওয়ার পর থেকে স্বামী মাসুদ স্ত্রী আপিয়ার কাছে কারণে অকারণে টাকা দাবি করতো। স্বামীর দাবীকৃত টাকা দিতে ইট-ভাটায় আবার কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করে টাকা দিতেন স্ত্রী আপিয়া বেগম। আর এসব টাকা‘জুয়া’ খেলা উড়িয়ে দিতেন স্বামী মাসুদ। টাকা না দিলেই নির্যাতন করতো স্বামী।

সোমবার(১১জুন) রাতে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইতে চাপ সৃষ্টি করে স্বামী মাসুদ। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটি হয়। সকালে পরিবারের জন্য সেমাই রান্না করছিল আপিয়া বেগম। ওইসময় সন্তানেরা দুষ্টুমি করলে শাসন করে মা আপিয়া বেগম। সেই সুযোগে কড়াই ভর্তি গরম সেমাই আপিয়ার শরীরে ঢেলে দেয় স্বামী মাসুদ। এতেই ঝলসে গেলে তাকে গুরতর অসুস্থ অবস্থায় হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবি গ্রামে। অভিযুক্ত মাসুদ উপজেলার পশ্চিম সারডুবি গ্রামের আব্দুস সামাদের পুত্র। আর নির্যাতনের স্বীকার গৃহবধু আপিয়া একই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে।

মঙ্গলবার বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ঝলসে যাওয়া শরীরের যন্ত্রনায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে আপিয়া বেগম। তার ঘাড় ও পিঠের বেশ কিছু অংশ ঝলসে গেছে।

এসময় আপিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী টাকার জন্য সব সময় আমাকে মারধর করেন। আমি ইট ভাটায় কাজ করে টাকা আয় করে তাকে দেই। আর সে সেই টাকা দিয়ে আমার স্বামী জুয়া খেলে শেষ করে। গত সোমবারও আমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে। আমি টাকা আনতে যায়নি বলে, বাচ্চাকে শাসন করার দোষে আমাকে প্রচন্ড মারধর করেছে। শুধু তাই নয়, কড়াই ভর্তি গরম সেমাই শরীরে ঢেলে দিয়েছে মাসুদ। মূলত টাকার জন্যই আমার শরীর গরম সেমাই ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে- বলতে বলতে ডুকওে কেঁদে উঠেন আহত গৃহবধূ আপিয়া বেগম।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবিাসিক মেডিকেল অফিসার নাঈম হাসান নয়ন বলেন, ‘আপিয়া নামে এক নারীর শরীরের কিছু অংশ ঝলছে গেছে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন’।

আপিয়ার মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ তবুও যতটুকু পারি জামাই মাসুদকে টাকা দিয়ে সাহায্য করি। জামাই খুবই খারাপ। বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে শুধু অকারণে মারধর করেন। আমি এর সঠিক বিচার চাই’।

বড়খাতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল সোহেল বলেন, ‘মাসুদ একজন খারাপ মানুষ। সে প্রায় সময় তার স্ত্রী আপিয়াকে মারধর করে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক বার বিচার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে’।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য