আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অভাবের কারণে দুটি পরিবারের সন্তান দত্তক দেয়ার বিষয়টি ঈদের আগের দিন প্রকাশ হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে কানাগোসা শুরু হয়েছে। যদিও দত্তকের বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কিন্তু স্থানীয় লোকজনের ধারণা তাদেরকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এসব জেনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সহায়তা দিয়ে পরিবার দু’টির দায়িত্ব নিয়েছেন।

একই সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবার দুটিকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী। ইতিমধ্যে স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামের সন্তান দত্তক দেয়া পিতা হাবিল মিয়া জানান, একটি প্রতিবন্ধী সন্তানসহ তার ৬টি সন্তান রয়েছে। নিজের কোন জায়গা-জমি নাই। রাজবাড়ির সরকারি জমিতে ঝুঁপঁড়ি ঘরে বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।

দিনমজুরী দিয়ে সংসারের ব্যয়ভার বহন এবং সন্তানদের লালন পালন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। যাতে সন্তানরা ভালোভাবে বড় ও মানুষ হতে পারে সেজন্যই আজ থেকে দেড় বছর আগে তার তিন সন্তানকে দত্তক দিয়েছে। দত্তক গ্রহনকারী নিঃসন্তান দম্পতিরা খুশি হয়ে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়াসহ সামান্য কিছু টাকা দিয়েছেন।

তারা তাদের সন্তানদের নিয়মিত খোঁজ নেন এবং শিশুরা ওই তিন পরিবারের সঙ্গে ভালো আছে। তবে দত্তক নেয়া পরিবারের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি হাবিল মিয়া।

এদিকে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের সন্তান দত্তক দেয়া পিতা আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে একজন শারিরীক প্রতিবন্ধি। তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে। সন্তানদের ঠিকমত ভরন পোষন না দিতে পারায় দুই বছর আগে দুইটি সন্তানকে ঢাকায় নিঃসন্তান দম্পতির হাতে দত্তক হিসেবে তুলে দেন। সেই সময়ে দত্তক গ্রহনকারী দম্পতি তাকে কিছু টাকা দেয়।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা অভাবের তাড়নায় অথবা ভরন পোষন না দিতে পেরে সন্তান দত্তক দিয়েছে এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা ধরণের কথা রয়েছে। কিন্তু বিগত ২ বছর আগের ঘটনাটি কেন এখন আলোচিত হচ্ছে। তারা মনে করছেন এর পিছনে কোন রহস্য জনক কারণ রয়েছে।

সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুবুরর রহমান ও শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তাদের জানা ছিল না। এমনকি স্থানীয়ভাবে তাদেরকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। তবে পরিবার দুইটি আসলে অসহায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী আলী জানান, অসহায় পরিবার দুটির পাশে এখন থেকে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে। তাদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সহায়তায় দেয়া হবে। এছাড়া হাবিলের এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হবে ও আশরাফুলকে স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে আশরাফুল ও হাবিল মিয়াকে ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে এবং প্রতিমাসে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২ হাজার করে টাকা প্রদান করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। এমপি পাটোয়ারী আশরাফুলের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে।

পাশাপাশি পরিবার দুটিকে বয়স্কভাতা ও ভিজিডির আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে পরামর্শ প্রদান করেছেন তিনি। এছাড়া দত্তক দেয়া সন্তানগুলোকে খুঁেজ বের করে নিয়ে আসার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য