দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫২টি ভেজাল পণ্য এখনো চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মানহীন এসব পণ্য বিক্রিতে আদালতের নির্দেশনার কথা অনেকে জানেন না বলেও দাবি করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। এসব ভেজাল পণ্য বিক্রয় বন্ধের তেমন কোন প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে অভিমত ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে উচ্চ আদালতের এক আদেশে এসব মানহীন পণ্য বাতিল ঘোষণা করে ১০দিনের মধ্যে বাজার থেকে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়। এ আদেশের ৩ সপ্তাহ পরও উপজেলার রাণীরবন্দর, চম্পাতলী, ঘন্টাঘর, অকড়াবাড়ি, ভুষিরবন্দর, বাংলাবাজার, তারকসাহারহাট, কিষ্টহরি, বিন্যাকুড়ি, বেলতলীবাজার, চিরিরবন্দর, কারেন্টহাটসহ কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়- এখনও ওইসব নিষিদ্ধ ভেজাল পণ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত।

উপজেলার বেশিরভাগই বিক্রেতাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে তাদের সরকারিভাবে বা বাতিলকৃত সেই ৫২টি মানহীন পণ্য কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। আর ক্রেতারা ক্রয় করেছেন বলেই তারা সেসব পণ্য এখনো বিক্রি করেছেন।

তবে কিছু বিক্রেতা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আদালতের সেই নির্দেশনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা স্বীক্ষার করলেও ওইসব পণ্য বিক্রয় বন্ধে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা না আসার কারণে তারা সেসব পণ্য এখনও বিক্রি করছেন বলে জানান।

আবার কোন কোন বিক্রেতার অভিমত, আদালতের বাতিল ঘোষণা করা ৫২টি পণ্যগুলোর বিষয়ে বেশিভাগই মানুষ জানেন না। বেলতলী বাজার মুদি ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, টিভি বা পেপার পড়ার সময় পাই না। তবে ৫২টি পণ্য বাতিলের কথা শুনেছি। তবে এখনও অনেক কাস্টমার ওইসব পণ্য চেয়ে নিচ্ছেন।

ঘুঘুরাতলী এলাকার মুদি ব্যবসায়ী ভুট্টু বলেন, ভেজাল পণ্যগুলো বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দিলেও আদালতের আদেশ পালন করছেন না অনেক দোকানদার। যে কারণে ভেজাল পণ্যগুলো দোকান থেকে অপসারণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থাকে একযোগে দ্রুত হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কোম্পানীগুলো তাদের পণ্যগুলি তুলে নিয়ে গেছেন। আমরা বড় বড় দোকানগুলি ভেজাল পণ্য বিক্রি করছিনা।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, এসব ভেজাল পণ্য খেয়েই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ইতঃপূর্বে উপজেলার দোকানীদের তা অবহিত করা হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে এখনও যারা নিষিদ্ধ ৫২টি পণ্য বিক্রয় করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ হারেসুল ইসলাম বলেন, থানার পক্ষ থেকে আমরাও প্রতিনিয়ত তদারকি করছি। সকল অফিসারগণকে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য