জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ওয়াপদা নতুন হাট এলাকায় সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কে নৈশ কোচ ও চার্জার রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। ৯ জুন রবিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নাবিল নৈশ কোচ নং- ঢাকা মেট্রো-ব-১৫০৬৪৪ শহরের ওয়াপদা মোড়ের সন্নিকটে নতুনহাট এলাকায় এসে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি চার্জার রিক্সার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে চার্জার রিক্সাটি বাসের নিচে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই রিক্সার যাত্রী চটপটি দোকানের কর্মচারী মো: মোহন মারা যায়। সে ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনের মোছারুর পুত্র।

দূঘটনার পর পর ফায়ার সার্ভিস খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদের উদ্ধার করে। দূঘটনায় আহত অটোরিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম ও অপর যাত্রী পারভেজ হোসেনকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম ১০ জুন সোমবার দুপুর ১১ টার দিকে মারা যায়। সে নীলফামারীর সদরের কাজীরহাট শিমুলতলী এলাকার মৃত. হেবুর পুত্র। একই এলাকার রিক্সা যাত্রী পারভেজের অবস্থাও সংকটাপন্ন।

বিক্ষুব্ধ জনতা নাবিল নৈশ কোচটি আটক করে এবং ভাঙ্গচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দূর্ঘটনার পর পরই চালক ও হেলপাররা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দীর্ঘ সময় সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক অবরোধ করে রাখে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতারে ভর্তি করে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করা সহ বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ায় নৈশ কোচটির কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে দূর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য