চুলে নানা রং লাগিয়ে ফ্যাশন করাটা এক রকম ব্যাপার, আর সাদা চুল ঢাকার চেষ্টা করাটা আর এক সমস্যা। অনেকেই আছেন, যাঁরা সাদা-কালো চুল ক্যারি করেন দারুণ স্টাইলে এবং ডাই ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনেই করেন না – এঁদের কথা আলাদা।

বেশিরভাগ মানুষই একঢাল কালো চুলের মাঝে রুপোলি ঝিকিমিকি দেখলেই মুষড়ে পড়েন। তা ঢেকে রাখার জন্য হেয়ার কালার লাগানোর পর্ব শুরু হয়। এ কথা মোটামুটি আমরা সবাই জানি যে বেশিরভাগ কেমিক্যাল রঙেই অ্যামোনিয়া থাকে। তা থেকে অ্যালার্জি হতে পারে মাথার ত্বকে, বেশিদিন ব্যবহার করলে চুলের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের চুল অল্প বয়স থেকেই পাকতে আরম্ভ করে দূষণ, স্ট্রেস, অযত্ন, ভুল ডায়েট বা স্বাস্থ্যহানির কারণে। তাঁরাও এমন কিছুর সন্ধানে থাকেন যা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে। প্রাকৃতিক হেয়ার ডাই তাই সবারই কাজে লাগে।

কালো চায়ের নির্যাস: এক কাপ জলে দু’ চাচামচ কালো চা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। মিশ্রণটা ঠান্ডা করে নিন। পুরো মাথায় খুব ভালো করে ঘষে ঘষে লাগান চায়ের লিকার। ঘণ্টাখানেক পর ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করে নেওয়া চুলে এই পদ্ধতিটি ট্রাই করে দেখুন, করার পর শ্যাম্পু দেবেন না। মাস দু’বার ব্যবহার করা যায়।

কালো কফির নির্যাস: খুব কড়া করে কফি বানিয়ে নিন। ঠান্ডা হওয়ার পর পুরো চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন কফি। মিনিট কুড়ি এইভাবে রাখুন, তার পর জল দিয়ে ধুয়ে নেবেন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন কফি ওয়াশ। গাঢ় রঙের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে আপনার সাদা চুল।

ঝিঙে আর নারকেল তেলের নির্যাস: খোসা সমেত ঝিঙে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তার পর রোদে খটখটে করে শুকিয়ে নিতে হবে। এক কাপ নারকেল তেলে তিন দিনের জন্য ভিজিয়ে রাখুন এই ঝিঙের টুকরোগুলি। তিন দিন পর ঝিঙেসমেত তেলটা ফুটিয়ে নিন ১০ মিনিটের জন্য। ঠান্ডা করুন। ছেঁকে রেখে দিন শিশিতে ভরে। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে চুলে আগা-গোড়া এই তেল লাগিয়ে নিন। তার পর ধুয়ে ফেলুন। অবশ্যই কোনও প্যারাবেন ও সালফেটমুক্ত প্রাকৃতিক শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন চুল ধোওয়ার জন্য। সপ্তাহে দু’-তিনবার ব্যবহার করা যায়। ঝিঙে নাকি মেলানিনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অসময়ে যাঁদের চুল পাকতে আরম্ভ করেছে, তাঁরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে ভালো ফল পাবেন।

আমলকীর প্যাক: আমলকীর জ্যুস তৈরি করার পর যে পাউডারটা পড়ে থাকে ব্লেন্ডারে সেটা ফেলে না দিয়ে কাজে লাগান। এক টেবিলচামচ আমলকীর পাউডার আর তিন টেবিলচামচ খুব ভালো মানের নারকেল তেল একটি গভীর পাত্রে রেখে আঁচ বসান। আমলকীর গুঁড়োটা একটা সময়ে কালো হতে আরম্ভ করবে। তখন নামিয়ে তেল ঠান্ডা করুন। তার পর ছেঁকে শিশিতে ভরে রাখুন। এই তেল শ্যাম্পু করার আগের রাতে মাথায় ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। সপ্তাহে দু’ দিন ব্যবহার করুন। এর পর যে শ্যাম্পু লাগাবেন সেটি যেন অবশ্যই সালফেট-মুক্ত হয়। এর ফলে চুল পাকার হার নিশ্চিতভাবেই কমবে।

কারিপাতা ও নারকেল তেলের প্যাক: আধ কাপ ভালো মানের নারকেল তেল আর এক মুঠোভরা কারিপাতা একসঙ্গে নিয়ে আঁচে বসান। একটা সময়ে দেখবেন তেলে কালচে ভাব দেখা দিচ্ছে। তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এই তেল পুরো চুলে ভালো করে ম্যাসাজ করুন, এক ঘণ্টা পর ধুয়ে নিন সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে। সপ্তাহে দু’-তিনবার করতে পারেন। হারিয়ে যাওয়া মেলানিন ফিরিয়ে আনতে কারিপাতার জুড়ি নেই!

হেনা ও আমলকীর প্যাক: তাজা হেনার পাতা আর আমলকী বেটে নিন একসঙ্গে। তার সঙ্গে মেশান কফি পাউডারের গুঁড়ো। প্যাক তৈরি করে চুলে লাগিয়ে রাখুন এক ঘণ্টার জন্য। শুকিয়ে গেলে সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। মাসে একবার করলেই চুল কালো থাকবে। তবে বাজার থেকে হেনা ও আমলকীর পাউডার না কিনলেই ভালো হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য