ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের কাঠুয়ায় আট বছর বয়সী এক নাবালিকাকে দলগত ধর্ষণ, নির্যাতন ও খুনের দায়ে ছয় ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে পাঠানকোটের একটি বিশেষ আদালত।

গত বছরের ১০ জানুয়ারি একটি যাযাবর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাকে জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ার একটি মন্দিরে আটকে রেখে মাদক খাইয়ে কয়েকদিন ধরে ধর্ষণ করা হয়, এ সময় তাকে কিছু খেতেও দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মাথা থেতলে লাশ জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়, জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

খুন করার আগে এক অভিযুক্ত শিশুটিকে ফের ধর্ষণ করার জন্য অনুনয় করেছিল বলে জানা গেছে।

১৭ জানুয়ারি জঙ্গল থেকে ওই শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ নির্মম ঘটনার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামে হাজারো মানুষ।

এ ঘটনার দোষীদের মধ্যে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা সঞ্জি রামও আছেন। তাকেই এ ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তার ছেলেকে এ মামলা থেকে খালাস দিয়েছে আদালত।

দোষী সাব্যস্ত ছয় জনের সাজার রায় সোমবারই ঘোষণা করা হবে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সঞ্জি রামের পাশাপাশি অপর অভিযুক্তরা হচ্ছেন তার বন্ধু প্রাভেশ কুমার, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের বিশেষ কর্মকর্তা দীপক খাজুরিয়া ও সুরেন্দ্র বর্মা, হেড কনস্টেবল তিলক রাজ ও উপপরিদর্শক আনন্দ দত্ত। পুলিশ কর্মকর্তারা সাক্ষ্যপ্রমাণ ধ্বংস করেছিলেন বলে প্রমাণ হয়েছে।

এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে ক্রাইম ব্রাঞ্চকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাক্ষ্যপ্রমাণ ধ্বংসের জন্য জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের উপরিদর্শক আনন্দ ও হেড কনস্টেবল তিলককে গ্রেপ্তার করে।

এরপর ২০ মার্চ রাজস্ব দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জি রাম পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি ছাড়াও ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার ছেলে বিশাল, এক ভাতিজা, পুলিশ কর্মকর্তা দীপক ও সুরেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৩ জুন জেলা ও দায়রা আদালতে এ মামলার শুনানি শেষ হয়। গোপনে এই মামলার শুনানি হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কাঠুয়ায় ঘুরে বেড়ানো ওই যাযাবর সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে ও তাদের এলাকা ছাড়া করার উদ্দেশ্যে ওই শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য