আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের নিহত আনজির সিদ্দিক আবির (২৫) এর স্মৃতি ও স্মরণে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারী জসীমুদ্দিন আব্দুল গণি কালেজের সামনে আবির নামকে স্মরণে রাখতে আবির চত্বর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা হয়।

রোববার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার পাটগ্রাম সরকারী কলেজ মোড়ে আবির চত্বরের শুভ উদ্বোধ ঘোষনা করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন এম.পি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পাটগ্রাম নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম,পাটগ্রাম পৌর মেয়র সমশের আলী, পাটগ্রাম ভার প্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি) মনছুর আলী সরকার,পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জাল হোসেন লিপু,পাটগ্রাম মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান নিলু,মোস্তাফিজুর রহমান ও অগ্নিকান্ডের নিহত আনজির সিদ্দিক আবিরের বাবা আবু বকর সিদ্দিক বাচ্চু।

রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের নিহত আনজির সিদ্দিক আবিরের (২৫) এর বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর শহরে। তার বাবা পাটগ্রাম উপজেলা ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক বাচ্চু ও তার মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাশরিফা খানম তামান্না।

অগ্নিকান্ডের নিহতের চাচা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাতিজার আনজির সিদ্দিক আবিরের অকাল মৃত্যুতে তার স্মৃতি ও স্মরণে কলেজ মোড়ের নাম হল আবির চত্বর। তিনি আরও বলেন, আনজির সিদ্দিক আবিরের প্রিয় স্থান ছিল এই মোড়টি তাই তার নাম অনুসারে রাখা হল আবির চত্বর।

প্রঙ্গত,গত ২৮ মার্চ ২০১৯ রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের নিহত আনজির সিদ্দিক আবির (২৫) নিহত হয়। পরিবার জানান,অগ্নিকান্ডের সময় আবীর ওয়াশ রুমে ছিলেন। ওই মুহূর্তে আবীরসহ অফিসে ছিলেন ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আগুন লাগার খবর শুনেই ১৯ জনই তৎণাৎক থেকে বেরিয়ে আসেন।

এ দিকে আবীর ওয়াশ রুশ থেকে বের হয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে পড়েন। সহকর্মী একজনকে মুঠোফোনে কল দিয়ে জানতে পারেন, ভবনে আগুন লেগেছে, তারা সবাই ভবন থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এ সময় আবীর আর্তচিৎকার করে বাঁচার আকুতি জানান। এর কিছুণ পর থেকে আবীরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা আবীরে লাশ উদ্ধার করে ১৩ তলা থেকে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে ২১-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের নয়তলায় অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫ টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য