ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হওয়ার চার মাস পর ভেনেজুয়েলা-কলম্বিয়ার সীমান্ত ফের খুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার গুরুত্বপূর্ণ এ সীমান্তটি খুলে দেওয়ার পর প্রথম দিনেই হাজার হাজার লোক সীমান্ত পেরিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে কলম্বিয়ায় গিয়ে দিন শেষে আবার ফিরেছেন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

ফেব্রুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো এ সীমান্ত দিয়ে তার দেশে মার্কিন সমর্থিত ‘মানবিক ত্রাণ সাহায্য’ ঢোকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অনুরোধে সীমান্তটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত খুলে দেওয়ার দিনটিতে ৩০ হাজারেরও বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক কলম্বিয়া এসেছেন; দিন শেষ হওয়ার আগেই ফিরেছেন প্রায় ৩৭ হাজার।

টুইটারে কলম্বিয়ার সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট তার দেশের সঙ্কটের জন্য মার্কিন ও তার মিত্রদের চাপিয়ে দেয়া অর্থনৈতিক যুদ্ধকে দায়ী করেছেন।

“স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা শান্তিপ্রিয় জনগণ আমরা,” বলেছেন মাদুরো।

বিবিসি বলছে, চার মাস বন্ধ থাকায় সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ভেনেজুয়েলার শহরগুলোর বাসিন্দারা নানান সমস্যায় ভুগেছেন। সীমান্ত সংশ্লিষ্ট এ শহরগুলোর বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার জন্য কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহরের ওপর নির্ভরশীল।

স্বাভাবিকভাবে অতিক্রমের সুযোগ না থাকায় অনেককেই অপরাধীদের চাঁদা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত টপকাতে হয়েছে।

বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এ সীমান্তটির সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক সেতু পার হতো বলে আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

কয়েক বছর ধরে চলা চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভয়াবহ ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে ভেনেজুয়েলার ৪০ লাখেরও বেশি নাগরিক দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিরোধীরা ভেনেজুয়েলায় ‘মানবিক ত্রাণ সাহায্য’ ঢোকানোর চেষ্টা করলে ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ডাচ এন্টাইলস দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে দেশটির সীমান্তগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিরোধীদের এ ত্রাণ সাহায্য ঢোকানোর চেষ্টাকে মাদুরো ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনার অংশ বলে অভিহিত করে সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেন।

গত মাসে মাদুরো ব্রাজিল ও আরুবা দ্বীপের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলেও আরুবার কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সীমান্তটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদল নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান গুইদো গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে জানুয়ারিতে নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি’ ঘোষণার পর থেকে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করে।

গত বছরের ওই নির্বাচনে মাদুরো ফের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গুইদো নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান’ ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতি দেয়।

যদিও সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সমর্থন নিয়ে মাদুরো এখনও বহাল তবিয়তেই দেশশাসন করছেন। চীন-রাশিয়া, কিউবা, ইরান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও তাকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

মাদুরোকে উৎখাতে এপ্রিলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টাও চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন গুইদো। ওই অভ্যুত্থানচেষ্টার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে বলেও অভিযোগ ভেনেজুয়েলার সোশালিস্ট ঘরানার প্রেসিডেন্টের।

ওই ঘটনার পর থেকে গুইদোর ঘনিষ্ঠ মিত্রদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ।

বিরোধী নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হিসেবে যে ‘পার্লামেন্টারি ইমিউনিটি’ পেতেন তা তুলে নেওয়া হলেও গুইদোকে অবশ্য এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য