কুড়িগ্রাম শহরের কলেজপাড়া এলাকায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনে আরিফা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আরিফ মিয়া, শাশুড়ি আকলিমা ও দেবর আশিক মিয়াকে আটক করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। নিহত গৃহবধূ আরিফা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভরসার মোড় এলাকার আলম মিয়ার মেয়ে।

রবিবার সকালে শহরের কলেজপাড়াস্থ আরিফ মিয়ার বাড়ি থেকে গৃহবধূ আরিফার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

রবিবার সকালে নিহতের মা কহিনুর বেগম বাদী হয়ে আরিফ মিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলো, গৃহবধুর শ্বশুর আশরাফ আলী ও ননদ আশা মনি। পলাতক দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী আরিফ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আরিফার ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। শনিবার আরিফ তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আরিফার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। শারীরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির সকলে মিলে আরিফাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে কলেজ পাড়াস্থ আরিফের বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রবিবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী আরিফ, শাশুড়ি আকলিমা ও দেবর আশিক মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

নিহত আরিফার বাবা আলম মিয়া জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণের গহনা দিয়েছি। এরপরও তারা নানা সময় টাকার দাবি করতো। কয়েকদিন থেকে আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করছে। আমি টাকা দিতে না পারায় তারা আমার মেয়েকে নির্যাতন চালিয়ে মেরে ফেলছে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজার রহমান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত গৃহবধূর গলায় ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত গৃহবধূর স্বামী-শ্বাশুড়ীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য