সাংবাদিক জামাল খাশুগজিকে মরণোত্তর সম্মাননা দিয়েছে সংবাদপত্র ও সংবাদ প্রকাশকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ পাবলিশার্স (ডব্লিউএএন-আইএফআরএ)।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ৭১তম ওয়ার্ল্ড নিউজ মিডিয়া কংগ্রেস, ২৬তম ওয়ার্ল্ড এডিটর্স ফোরাম ও তৃতীয় উইমেন ইন নিউজ সামিট চলাকালে ১ জুন ডব্লিউএএন-আইএফআরএর পক্ষ থেকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বার্ষিক এ পুরস্কার দেওয়া হয় বলে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

খাশুগজি পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার শাফা আল আহমেদ ‘দ্য গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ শিরোনামে এ সম্মাননা ওয়ার্ল্ড এডিটরস ফোরামের প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যালাওয়ের কাছ থেকে গ্রহণ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আপোষহীন ও মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে নিজের মতপ্রকাশের অধিকার চর্চার মাধ্যমে ক্ষমতার মুখোমুখী দাঁড়িয়ে সত্য প্রকাশের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ত্যাগ স্বীকার করে ও অকাল মৃত্যুর শিকার হয়েও খাশুগজি সাংবাদিকের প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হননি।

২০১৭ সালে স্বেচ্ছানির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর ওয়াশিংট পোস্টে ছাপা হওয়া খাশুগজির প্রথম নিবন্ধকে উদ্ধৃত করে ক্যালাওয়ে বলেন, “যখন আমি মনের কথা প্রকাশের সাহস দেখানো বিদ্বৎজন ও ধর্মীয় নেতাদের ভয়, চাপ, আটক ও প্রকাশ্য অপমানের কথা বলি এবং তারপর বলি যে আমি সৌদি আরবের। তখন কি আপনার অবাক হন?”

তিনি বলেন, “মাতৃভূমির জন্য অপার ভালবাসা থাকলেও দেশ কোন পথে যাচ্ছিল তা অস্বীকার করতে পারেননি খাশুগজি। তিনি বলে যেতেই থাকলেন এবং তার জন্য তাকে জীবন দিতে হল।”

বিয়ে সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত বছর ২ অক্টোবর সাংবাদিক খাশুগজি তার তুর্কি বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিসকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান। কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি তিনি। তুরস্কের দাবি, তাকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করার পর লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

তবে রিয়াদ প্রথমে ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও মাসখানেক পর পরিকল্পনা অনুযায়ী মরণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও অভিযুক্ত নাম প্রকাশ করা হয়নি। এর পেছনে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের হাত রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের খবর থাকলেও যুবরাজ বিষয়টি জানেন না বলে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

শাফা বলেন, গত অক্টোবর থেকে আমাদের অনেকই ধাঁধাঁর মধ্যে রয়েছি। তাকে কি করা হয়েছে, কেন সৌদি আরব তার কথাকে এত বিপদজনক মনে করল যে, তাকে নৃশংসভাবে খুন হতে হল। তার লাশ উধাও এবং এটা করা হয়েছে শুধু তাকে চুপ করে রাখার জন্য।

এই চলচ্চিত্রকার বলেন, “সৌদি সরকার আশা করেছিল, খাশুগজির মৃত্যুতে আমরা বাকি সবাই ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যাব। কিন্তু তা হয়নি, যারা এতোদিন চুপ ছিলেন তারাও এখন আওয়াজ দিচ্ছেন। কারণ তারা বুঝে ফেলেছেন, তাদের কথা অনেক শক্তিশালী, এমনকি এই সরকারের জন্য হুমকি।”

১৯৬১ সাল থেকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি বা সংগঠনকে প্রতি বছর ‘গোল্ডেন পেন অব ফ্রিডম’ পুরস্কার দেয় ডব্লিউএএন-আইএফআরএ। প্রতিবছর সম্মেলনে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

এবছর তিন দিনের কংগ্রেসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশ থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদ প্রকাশের মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিশীল সংগঠটিতে ‍বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশের ২০ হাজার সংবাদপত্র ও ৭০০ কোম্পানি সদস্য হিসেবে আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য