ডেক্স রিপোর্টঃ দিনাজপুর সদরের বড় ময়দানে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহত্তম ঈদগা মাঠে এখন থৈ থৈ বৃষ্টির পানি। কতৃপক্ষ চেষ্টটা যে করছে না তা নয়, কিন্তু প্রকৃতির কাছে মানুষ বরাবরি অসহায়।

রমজান মাস শুরু থেকে বড় ময়দানের ঈদগা মাঠটির প্রস্তুতি শুরু হয়। মাঠ সমান করা, আগাছা আবর্জনা পরিস্কার, ওজুর জন্য পানির ব্যবস্থা, ঈদগা মিনারে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সব ঠিকঠাক মত সুন্দর করে সাজান হয়েছিল। বাধ সাধলো বৃষ্টি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মাঠটি সম্পূর্ণুরুপে প্রস্তুত ছিল।

ঈদগায় জলাবদ্ধতা I+ Dinajpurnews দিনাজপুরনিউজগত তিনদিন ধরে রাতে লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে, আজ রবিবার বৃষ্টির আর থামার নাম নেই। সেই ভোর থেকে চলছে তো চলছেই। বৃষ্টির কারনে ঈদগা মাঠের জায়গায় জায়গায় জমে আছে পানি। বাংলাদেশ অবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে বৃষ্টি আরও দুই একদিন থাকতে পারে। এমনকি ঈদের দিনেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

মাঠের প্রস্তুতিতে পৌর কতৃপক্ষ চেষ্টার ত্রুটি করছে না, কিন্তু প্রকৃতির কাছে তাদের চেষ্টা বারবার বিফল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শুকনো জায়গার অভাবে এবার মাঠে প্রত্যশিত জনসমাগমে সমস্যা হবে বলে অনেকে ধারনা করছেন।

মিশনরোড় আদি বাসিন্দা একজন প্রাক্তন প্রকৌশলী বলেন, এত বড় মাঠ থেকে হাজার হাজার গ্যালন পানি গড়িয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করাটা বোকামি, এর সাথে মাটি ধুয়ে যাচ্ছে। নতুন যে জায়গায় বালু ফেললে তার পাশে পানি জমছে। এভাবে সম্ভব না।

পানি নিস্কাসনের জন্য বৃটিশদের ফর্মুলা অবলম্বন করতে হবে। একসময় এই মাঠের ভিতরে জায়গায় জায়গায় ড্রেনেজ সিস্টেম চালু ছিল, যা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সেভাবে ড্রেনেজ স্থাপন করতে হবে, তাহলে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন হবে। ছুটির কারনে বড়মাঠের জলবদ্ধতা সম্পর্কে দিনাজপুর পৌরকতৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ সম্বব হয়নি।

ঈদগায় জলাবদ্ধতা I+ Dinajpurnews দিনাজপুরনিউজমাঠের আশেপাশের এলাকা বাসিরা অভিযোগ করে, গত একমাস যাবত ভেঙ্গে যাওয়া বানিজ্য মেলার মালামাল মাঠের শুকনো প্রান্ত ঘিরে দখল করে রেখেছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে না করার শর্তে মেলার এক কর্মচারি বলেন, মেলা কতৃপক্ষ ঈদে আরেকবার ‘রাইড’ ব্যবসা করবে সেকারনে তারা মেলা সরাচ্ছে না।

এলাকা বাসিরা অভিযোগ করে, মাঠের একপ্রান্ত দখল করে ঘিরে রাখায় অতন্ত দৃষ্টিকটু পরিবেশ সৃষ্ট হয়েছে। যা দিনাজপুর বড় ময়দানের সুন্দর্যকে নষ্ট করছে। মাঠে এই প্রান্ত পরিস্কার করলে ঈদের নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা শুকনো জায়গায় বসতে পারতো বলে ঈদগা আবাসিক এলাকা ও মিশনরোড এলাকা বাসিরা মনে করেন।

বৃষ্টি মৌসুমে যুগ যুগ ধরে দুর দুরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ বড় মাঠে এভাবেই ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। তারা প্রশাসনের কাছে মাঠ দ্রুত খালি করার দাবি জানায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য