ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহ। শুক্রবার রাতে কুদস দিবস উপলক্ষে এক ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং যুদ্ধের আগুন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে চুক্তি থেকে আংশিক সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় তেহরান। এরপর ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে উগসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরুর অভিযোগ এনেছে।

শুক্রবারের ভাষণে নাসরুল্লাহ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে এই সমগ্র অঞ্চল পুড়বে, যুক্তরাষ্ট্রের সব সৈন্য ও স্বার্থ নির্মুল করে দেওয়া হবে। ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তার গোয়েন্দা বাহিনী এটা ভালো করে জানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও সেনাবাহিনী ধ্বংস হবে এবং সৌদি শাসক গোষ্ঠী ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে তাদেরকে যুদ্ধের পরিণাম ভোগ করতে হবে।’

হিজবুল্লাহ মহাসচিব আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল তেলের দাম হবে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার। তিনি মনে করেন, তেমনটা ঘটলে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাবে। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে না।

হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রসঙ্গে নাসরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বলি না। আমি আবারও পুরো বিশ্বের সামনে বলছি আমাদের কাছে লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব।’ ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’-কে ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে তা মোকাবেলার ঘোষণা দেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য