কুড়িগ্রামের রৌমারীর সীমান্তের জিঞ্জিরাম নদী থেকে মহিদুল ইসলাম (২৪) নামের এক গরু ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার জিঞ্জিরাম নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত মহিদুল বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি।

নিহত মহিদুল ইসলাম উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের দাঁতভাঙ্গা গ্রামের সাইজুদ্দিনের ছেলে।

এদিকে বুধবার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলির বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের দাঁতভাঙ্গা কোম্পানি কমান্ডার মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত মহিদুল ইসলামের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে যা সাধারণত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ব্যবহার করে থাকে।

এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানানোর জন্য পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এ কোম্পানি কমান্ডার।

কোম্পানি কমান্ডার মো. আমিনুল ইসলাম এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে আরও জানান, বুধবার (২৯ মে) ভোর রাতে রৌমারীর শৌলমারী ইউনিয়নের চর গোয়ালমারি সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৫৮/ ২এস এর কাছে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। এসময় ওই সীমান্তে কয়েকজন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী গরু আনার জন্য গিয়েছিল বলে জানায় এলাকাবাসী।

তাদের ধারণা, ওই সময় বিএসএফ বাংলাদেশি গরু চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে মহিদুল ইসলাম সহ তিন গরু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। পরে মহিদুল ইসলাম নিহত হলেও অপর গরু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, আহত অপর গরু ব্যবসায়ীরা হলো দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণ ধরা গ্রামের কালু শেখের ছেলে মফিয়ার এবং হরিণধরা পূর্বপাড়া গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল শহীদ। তবে তারা কোথায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন সে ব্যাপারে কেউ কিছু জানে না।

এদিকে রৌমারী থানা পুলিশ জানায়, মহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে তার বাবা সাইজুদ্দিন বুধবার রাতে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিঞ্জিরাম নদীতে নিখোঁজ মহিদুল ইসলামের লাশ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য