আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের ফয়জার রহমান ডলারের ছেলে মেহেদী রহমান নিলয়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে ভুয়া কাগজপত্রাদি সৃজন করে এবং ব্যাংকের চেক ডিজওনার দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ। এব্যাপারে আদালতে তারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের ভুয়া স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে একাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা দায়ের করেছেন একই গ্রামের অতুল চন্দ্র রায়ের ছেলে সুব্রত রায়। এব্যাপারে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সন্তানের পক্ষে তার পিতা ফয়জার রহমান ডলার তাঁর লিখিত বক্তব্যে উলে¬খ করেন প্রতিবেশী সুব্রত রায়ের কাছ থেকে মেহেদী রহমান নিলয় ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল স্থানীয় একাধিক স্বাক্ষীগনের সম্মুখে শতকরা ৮ টাকা হার সুদে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাদন বাবদ গ্রহণ করে এবং একটি স্বাক্ষরিত চেক প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সুব্রত রায় ইসলামী ব্যাংক লিঃ সুন্দরগঞ্জ শাখার ওই চেকে (নং এমএসআর- ০১৫৩৭৪৯) এর পাতায় ১৫ লাখ টাকা লিখে ব্যাংকে ওই পরিমাণ টাকা না থাকায় চেকটি ডিজওনার করে ব্যাংক সার্টিফিকেট গ্রহণ করে।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়। যাতে ১৫ লাখ টাকা নির্দিষ্ট তারিখে পরিশোধ করা হবে বলে উলে¬খ করা হয়েছে। কিন্তু ওই চেয়ারম্যান ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি অপর একটি প্রত্যয়নপত্রে উলে¬খ করেন যে, উক্ত অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি জানেন না এবং ইতোপূর্বে মামলায় দাখিলকৃত প্রত্যয়নপত্রটিও তার স্বাক্ষরিত নয়।

অথচ এব্যাপারে সুব্রত রায় বাদি হয়ে মেহেদী রহমান নিলয়সহ ৪ জনকে আসামি করে একটি সিআর মামলা (নং ৩৭৫/২০১৮) এবং ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অপর একটি ফৌজদারি মামলা (নং ১১/২০১৯) দায়ের করেন। উলে¬খ্য, ফৌজদারি মামলাটি সুনানির দিনই খারিজ হয়ে যায়।

এমতাবস্থায় মেহেদী রহমান নিলয় মিথ্যা মামলার এই হয়রানী থেকে বাঁচতে ইউপি চেয়ারম্যানের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে মামলা দায়ের করার অপরাধে আমলী আদালতে একটি সিআর মামলা (নং ৫৭/১৯) দায়ের করে। আদালত এই মামলাটি পুলিশের বিশেষ শাখা পিবিআই এর কাছে তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, সুব্রত রায় একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবি হিসেবে জেলা বারের আওতায় প্রাকটিস করার কারণে ফয়জার রহমান ডলারের সন্তানের পক্ষে কোন আইনজীবি মামলা পরিচালনা করতে রাজি হচ্ছেন না। এতে চরম বিপাকে পড়ে বাধ্য হয়ে তার সন্তানের জন্য হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসতে হয় তাকে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য মো. আলমগীর হোসেন, আমজাদ হোসেন, এমদাদুল হক, তারা মিয়া প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য