মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও॥ পুলিশ কর্তৃক শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে মাকে বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১০ বছরের শিশু সন্তান মো: আতিক হাসান।

সোমবার বেলা ১ টায় রানীশংকৈলে এক সাংবাদিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ওই শিশু।

এ সময় সে এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৬/০৫/২০১৯ ইং দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টার সময় কোন অভিযোগ ছাড়াই হরিপুর থানা পুলিশের ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য অতির্কিত ভাবে টেংরিয়া ঝাড়াবাড়ি হরিপুর ঠাকুরগাঁও আমাদের বাসায় হামলা চালায় এবং দরজায় সজোরে লাথি মারতে থাকে ।

আমার বাবা বাড়িতে না থাকায় আমরা দরজা খুলতে ভয় পাই। এক পর্যায়ে পুলিশ লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে ফেলে আমার মায়ের শয়ন কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করে এবং কোন কথা বার্তা ছাড়াই আমার মাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। মারধরের কারন জানতে চাইলে আমার মাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং বলে আমার মা নাকি মাদক ব্যবসায়ী।

অথচ পুলিশ আমাদের পুরোবাড়ি তল্লাশি চালিয়েও কোন মাদক দ্রব্য পায়নি। বরং আমাদের বাসা থেকে নগদ ২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা সহ একটি বাজাজ ডিসকোভার ১২৫ সিসি মোটর সাইকেল নিয়ে যায়।

এ সময় আমি কান্নাকাটি ও চিৎকার করতে থাকলে পুলিশ আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। আমার চিৎকারে এলাকাবাসী আসলে তাদেরকেও গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় পুলিশ। অবশেষে আমার মাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় হুমকি দেয়, আমরা বাড়াবাড়ি করলে আমার মা বাবাকে ক্রশ ফায়ারে মেরে ফেলা হবে।

আতিক আরও বলেন, আমি আজ ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে বলছি যে, পুলিশ যখন জনগণের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করে তখন একটি রাষ্ট্র আর নিরাপদ থাকেনা। আমরা সাধারন জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আজ আমাদের জন্য আতঙ্কের।

ওই শিশু সন্তান এ ঘটনায় পুলিশ সুপার ঠাকুরগাঁও বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আতিকের চাচা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মামা, এন্তাজুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য