দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ধানের ন্যায্য মূল্য ও পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে ন্যায্য মজুরি প্রদানের দাবিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি দিনাজপুর জেলা শাখা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দিনাজপুরে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি তুলে দেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বজলুর রশিদ। এসময় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আলহাজ্ব রেজিনা ইসলামসহ দলের অন্যান্য অঙ্গসহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে দিনাজপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বোরো ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত খরচের চেয়ে ধানের মূল্য কম হওয়ায় কৃষক হাহাকার করছে। কিন্তু ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভুত সঙ্কট নিয়ে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে তাদের কোনো দায় নেই বলে সাফ জানিয়েছেন দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। সরকারের কোনো মাথাব্যাথা নেই। আসলে সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণেই কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ কৃষকরাই দেশের আত্মা ও প্রাণ।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসবে। এমতাবস্থায় আমরা দিনাজপুর জেলা বিএনপির পক্ষে দাবি জানাচ্ছি- মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করার জন্য আপনার মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

পাশাপাশি স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ২৬টি পাটকল একযোগে লাগাতার ধর্মঘট পালন করলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবী মেনে নিচ্ছে না। শ্রমিকরা মজুরী না পেয়ে ১০ থেকে ১৫ সপ্তাহ অর্ধাহারে-অনাহারে জীবন-যাপন করছে। ২০১৫ সালের মজুরী কমিশন এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্মারকলিপিতে জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব ২৬টি পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি পরিশোধ ও অন্য দাবিগুলো মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, মো. মোকাররম হোসেন, খালেকুজ্জামান বাবু, আলহাজ্ব মাহবুব আহম্মেদ, বখতিয়ার আহম্মেদ কচি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউর রহমান রেজা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলী চৌধুরী লিমন, সহসভাপতি রায়হান সরকার মিন্টু, শামিম খান, বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী, মো. আলম শাহসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য