মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁওয়ে মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি নদী ও দুটি বিলে নয়টি মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করে মৎস্য বিভাগ। ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ঘোষিত এসব অভয়াশ্রমের অধিকাংশই এখন পানিশূন্য।

বিশেষ করে নদীগুলো ভরাট হয়ে নাব্য সংকট দেখা দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে অভয়াশ্রমের সুফল ভোগ করতে না পারলেও বিধিনিষেধের কারণে বিপাকে রয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের ১৩টি নদীর মধ্যে টাংগন, শুক, কুলীক ও তীরনই নদীতে সাতটি মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে টাংগন নদীর চারটি অভয়াশ্রম হলো মৎস্যরানী, কদমতলী, ভুমণি ও সাগুনি। শুক, কুলীক ও তীরনই নদীর মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো হলো যথাক্রমে বুড়িরবাঁধ, রাজবাড়ী ও রূপগঞ্জ। অন্যদিকে পানিগাঁও ও বীরগঞ্জ বিলে বিলের নামেই ঘোষণা করা হয় আরো দুটি অভয়াশ্রম।

এর মধ্যে সর্বপ্রথম ২০০০ সালের দিকে ঘোষণা করা হয় কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রম। আর সর্বশেষ গত বছর ঘোষিত অভয়াশ্রম হলো টাংগনের মৎস্যরানী। বাকিগুলো ঘোষণা করা হয় ২০০৯-১১ সালের মধ্যে। এসব অভয়াশ্রমের প্রতিটির সীমানা নির্ধারণসহ বেড়া দেয়ার কাজে ব্যয় হয় ১ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয়রা জানায়, নদীগুলোয় পানি না থাকায় অভয়াশ্রমগুলো বর্তমানে চরে পরিণত হয়েছে। সামান্য যেটুকু পানি আছে, নজরদারির অভাবে সেখানে প্রভাবশালীরা মাছ ধরছেন। অথচ বেড়া দিয়ে রাখার কারণে জেলেরা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। স্থানীয়দের দাবি, নদী খনন কিংবা সংস্কার না করে অপরিকল্পিতভাবে ঘোষিত এসব অভয়াশ্রম থেকে কোনো সুফল মিলছে না।

ঠাকুরগাঁওয়ের সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল ইসলাম প্রবাল বলেন, এ জেলায় মৎস্য অভয়াশ্রমের জন্য সরকারের যে টাকা খরচ হয়েছে, তা কোনো কাজে আসছে না। পুরো প্রকল্প এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। সর্বশেষ টাংগন নদীতে ঘোষিত সদরের মৎস্যরানী অভয়াশ্রমটির অবস্থাও আগেরগুলোর মতো। এটি নামেই অভয়াশ্রম। বেড়া দিয়ে ঘেরা এ অভয়াশ্রমের পুরোটাই প্রায় চর।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোহা. সাইনার আলম জানান, অভয়াশ্রমের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ আসছে তা অপ্রতুল। এছাড়া অভয়াশ্রমের সঙ্গে যুক্ত সুবিধাভোগীরাও এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসছেন না। এর অন্যতম প্রধান কারণ, সচ্ছল ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীর তালিকায় থাকা। সুবিধাভোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত একটি অভয়াশ্রমের সঙ্গে ২০-৩০ জন সুবিধাভোগী থাকেন। তাদের মৎস্য চাষবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে রাখা হয়। এজন্য তাদের বিশেষ সম্মানীও দেয়া হয়।

এ কর্মকর্তা আরো জানান, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অভয়াশ্রমগুলোর সংস্কারের জন্য চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কারের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ বরাদ্দ থেকে প্রতিটি অভয়াশ্রমের পেছনে ব্যয় করা হবে ৪০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা নদীগুলো খননের উদ্যোগ নিয়েছি। নদী খনন হলে নাব্য সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোয়ও পানি ফিরে আসবে। এর মধ্য দিয়ে জেলায় প্রাকৃতিক উেস মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এরই মধ্যে দুটি নদীর খননকাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোয় দ্রæত সময়ের মধ্যে খনন শুরু করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য