ঠাকুরগাাঁওয়ে রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নে ২টি ইট ভাটার গ্যাসে ৫০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। যে ভাটা মালিকরা কৃষি অফিসের প্রত্যয়ন পত্র না নিয়েই ইট ভাটা স্থাপন করেছে সে ভাটার গ্যাসে শতাধিক কৃষক আজ মাথায় হাত দিয়ে সমাজপতিসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

আজ রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মহেষপুর গ্রামে এম.এন.বি ও কে.এম.বি ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ১৬ একর জমির বোরো ধান ও ২ একর জমির ভূট্টা ফসল নষ্ঠ হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ফসলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ১৬ মে ভাটা মালিক আহম্মেদ হোসেন বিপ্লবের ট্রাক্টরটি আটক করলেও প্রভাবশালী মালিকের দাপটে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আলম ডনের নির্দেশে একদল পুলিশ ট্রাক্টরটি মধুয়াবাড়ি নামক স্থান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মহেষপুর গ্রামের দর্শন আলীর পুত্র গোলাম রব্বানী, বৈশাগুর পুত্র হামিদুর রহমান, ইসমাইলের পুত্র মাহাতাব উদ্দীন, দবির উদ্দীনের পুত্র আইনুল হকের সাথে তারা জানায় এম.এন.বি ভাটা মালিক আহম্মেদ হোসেন বিপ্লব, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সবুজ, মতিউর রহমান মতি কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করে বিষাক্ত গ্যাসে আমাদের ফসল গুলি নষ্ঠ করেছে। এ ছাড়াও কে.এম.বি ইট ভাটা মালিক ফারুক মাষ্ঠার ও জব্বার মাষ্ঠারে ভাটার বিষাক্ত গ্যাসেও আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয়দেব নাথ এ প্রতিনিধিকে বলেন ভাটা স্থাপনের সময় এ ভাটা ২টি কৃষি অফিসের কোন প্রত্যয়ন পত্র না নিয়েই অনিয়মভাবে ভাটা স্থাপন করেছে। তাছাড়া আমরা কৃষি বিভাগ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরি করেছি ক্ষতির কারণ উদঘাটনের জন্য ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাটা মালিক আহাম্মেদ হোসেন বিপ্লব বলেন সরকারের নিয়ম মেনেই হাওয়া ভাটা তৈরি করা হয়েছে এর পরও যদি ফসল নষ্ঠ হয় আমাদের কোন করণীয় নেই। কে.এম.বি ইট ভাটা মালিক ফারুক মাস্টার বলেন বিপ্লবের ভাটা থেকে এ ক্ষতি হয়েছে আমাদের ভাটা থেকে নয়।

এ ব্যাপারে ওসি খায়রুল আনাম ডন (তদন্ত) বলেন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই ট্রাক্টরটি ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য