মিয়ানমারের সংঘাত কবলিত রাখাইন রাজ্যের জন্য ঘোষিত ১০ কোটি ডলারের এক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দাতা গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্বব্যাংক। গত ১০ মে এই উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত ঘোষণা করে সংস্থাটি। তবে
দেশটিতে সক্রিয় বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা মিয়ানমারে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে ওই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তোলা হয়েছে-মানবাধিকার ইস্যু বাদ দিয়ে এই উন্নয়ন পরিকল্পনা কতোটা অর্থবহ হবে সেই প্রশ্ন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। দারিদ্র পীড়িত রাজ্যটিতে রোহিঙ্গারা ছাড়াও নৃতাত্তিক রাখাইন জনগোষ্ঠীও নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকে। তাদের অধিকার আদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে সেনাবাহিনীর সংঘাতে চলতি বছরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যটিতে উন্নয়ন দিয়ে সহিংসতা মোকাবিলার কথা বলে আসছেন মিয়ানমারের শীর্ষ নেতারা।

গত বছরের জুলাইতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও বিশ্বব্যাংকের পূর্ব এশিয়া ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া কাউকওয়ার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের ফলাফল হিসেবে রাখাইনের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ঘোষিত পরিকল্পনা মিয়ানমার সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে বিশ্বব্যাংক।

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাখাইনের জন্য ঘোষিত এই পরিকল্পনা এখনও বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রজেক্টের আওতায় উদ্যোক্তারা কর্ম সৃষ্টিতে সহায়তা পাবেন। আর এসব কাজের বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা পাবে সরকার।

তবে মিয়ানমারে সক্রিয় বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) তরফে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে রাখাইনের সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের জীবনে যে মানবাধিকার ইস্যু প্রভাব রাখছে তাকে মোকাবিলা ছাড়া এই পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কতোটা অর্থবহ হবে তা কল্পনা করা কঠিন’। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও চলাফেরার অধিকারের বিষয়টিতে মিয়ানমারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশ্বব্যাংকের ঘোষণার আগে প্রাথমিক আলোচনার মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে এই প্রকল্প নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলেছিলেন নগদ অর্থের প্রবাহ রাখাইনে উল্টো ফল আনতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে বিভক্তি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য