মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় এবং ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পরও সবসময়ই ইরানের ইসলামী সরকার ব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন।

ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে এমনকি সম্প্রতি সামরিক হামলারও হুমকি দিয়েছে। তবে ইরানও সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোয় এবং ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে এমনকি ইউরোপীয় মিত্ররাও অবস্থান নেয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

ইরানে হামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই এ কথা উল্লেখ করে আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন বলেছে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরণের হামলা চালাতে হলে আরো কয়েক মাস আগ থেকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। ম্যাগাজিনটির আজকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক তৎপরতার ব্যাপারে পেন্টাগনের তিনজন কর্মকর্তা বলেছেন, পারস্য উপসাগরে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়নি।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত দুই সপ্তাহ ধরে দাবি করে আসছেন ইরান এ অঞ্চলে আমেরিকা ও তার মিত্রদের সামরিক অবস্থানে হামলা চালাতে পারে এবং ইরান যদি সত্যিই হামলা চালায় তাহলে ওয়াশিংটন পাল্টা হামলা চালাবে বলে তিনি হুমকি দেন। বোল্টন ও পম্পেওর ধারণা সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে ইরানকে নতজানু করতে বাধ্য করা যাবে এবং দেশটির উন্নয়ন অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করা যাবে।

কিন্তু ইরান বহুবার বলেছে, আমেরিকা ও তার মিত্ররা যদি হামলা চালায় তাহলে তেহরান এর কঠোর জবাব দেবে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে এসেছেন। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেছেন, তারা ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চান না। দৈনিকটি আরো লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর প্রচারণাগত চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছেন যাতে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানে সামরিক হামলার পরিণতির বিষয়টি আগের চেয়ে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটেনে ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বাইদি নেজাদ বলেছেন, আমরা কোনো যুদ্ধের সূচনা করতে চাই না কিন্তু ইরানি জাতি আমেরিকার যে কোনো আগ্রাসন মোকাবেলায় প্রস্তুত।
-পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য