দিনাজপুর নিউজ ডেক্স রিপোর্টঃ দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার শংকরপুর মৌজার কড়াইবিল এলাকায় বর্গা জমিতে ইরি বোর মৌসুমে কাটারী ধান লাগিয়ে সফল হয়েছেন স্থানিয় চাষি মোঃ সরফরাজ নওয়াজ হোসেন রতন।

গত কয়েক সৌসুমে বোর ধানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি গতবছরে (২০১৮ সালে) গবেষনা মুলক অল্প কিছু কাটারী ধানের বীজ চারা করতে দেন। চারা বের হলে তিনি তা নিজ বাগানের এক কোনে রোপন করেন।

সেই ধানের চারা বোর ধানের মত যত্ন নিয়ে সেবার পাঁচ কেজির মত কাটারী ধান পান। ব্যস ভুত চেপে বসে মাথায়। এবার বোর মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে কাটারী ধান লাগিয়ে ছিলেন, বড় করে গবেষনার স্বার্থে। ফলাফল পেয়ে গেলেন।

রতন দিনাজপুর নিউজকে বলেন, বোর মৌসুমে কেন চিকন ধান আবাদ হয় না। আর বোর আবাদ করে আমরা কৃষকরা বারবার ধরা খাচ্ছি। কৃষি শিল্প বাচাতে আমাদের চিকন ধানের প্রয়োজন ছিল। তাই আমি এই মৌসুমে চিকন কাটারী ধান ফলানোর চেষ্টা করেছিলাম, এবং সফল হয়েছি।

এই মৌসুমে বীজ লাগে বিঘা প্রতি পাঁচ কেজি, ফলন আসে প্রায় বত্রিশ মন। এই ধানের দামও ভাল, দুই মন বস্তা প্রতি নুন্যতম ২৫০০ টাকা। যাতে করে কৃষি খরচ উঠিয়ে লাভের মুখ দেখা সম্ভব।

আজ (১৮ মে) শনিবার তিনি সেই এক বিঘা জমির ধান কাটেন এবং কাচা ধান হিসেবে বস্তা প্রতি ২৫৫০ টাকায় বিক্রী করে দেন। তিনি বলেন, আগামি বছর আমি আমার সমস্ত জমিতে বোর মৌসুমে কাটারী ধান আবাদ করবো।

রতন বলেন কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকরা যখন বোর ধান চাষে লাভবান হচ্ছেনা, তখন চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। ধান চাষ কখনও কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্থ করেনি, করেছে মানুষ। তাই বাজারে লাভ করতে হলে আমাদের সচেতনতা ও পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হবে।

পেশায় সাবেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সরফরাজ নওয়াজ হোসেন রতন, দিনাজপুর সদরের বালুবাড়ীর মোঃ মোয়জ্জেম হসেনের ছেলে। তিনি প্রায় শখের বসে ২০১০ সাল থেকে চাষাবাদ শুরু করেন।

শীতের মৌসুমের কাটারী ধানের ফলন গ্রীষ্ম মৌসুমে ঘটিয়ে মোঃ সরফরাজ নওয়াজ হোসেন রতন কৃষি খাতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর এবং ধান গবেষনা ইনিসটিটিউট বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিলে দেশের কৃষকরা আবারও বোর মৌসুমে লাভের মুখ দেখতে পারবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য