ইয়েমেনের সর্বোচ্চ বিপ্লবী পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ আলী আল হুথি বলেছেন, সম্প্রতি তার দেশের সেনাবাহিনী কেবল নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপ লাইনে প্রতিশোধমূলক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে ইরান সমরাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অনেক দিন ধরেই মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে।

আজ (বুধবার) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আল হুথি বলেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপ লাইনের দু’টি পাম্পিং স্টেশনে যেসব ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এ হামলায় ইরানের কোনো ভূমিকা নেই। এসব পাইপ লাইনের সাহায্যে আশ-শারকিয়া প্রদেশের তেল খনিগুলো থেকে উত্তোলিত তেল রেড সি উপকূলবর্তী ইয়ানবু বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌদি তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপ লাইন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

মোহাম্মদ আল হুথি বলেন, গত চার বছর ধরে আনসারুল্লাহর বিপ্লবী বাহিনী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে। তারা ইরানের পক্ষ হয়ে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে না। আল হুথি বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সর্বাত্মক অবরোধের ফলে যেখানে একটি রুটি পর্যন্ত ঢুকতে পারে না সেখানে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে বলে যে দাবি তোলা হচ্ছে তা অত্যন্ত ‘হাস্যকর’।

তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তখনই এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করা হবে যখন দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসন স্থগিত করবে। এই বিষয়ে কেবল ইয়েমেনি জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
-পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য