মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড় জেলা কারা অভ্যন্তরে ঢাকা বারের বিশিষ্ট আইনজীবি এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত প্রণব কুমার রায়ের সন্তান এ্যাডভোকেট পলাশ কুমার রায়ের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, আটোয়ারী।

১৫ মে সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পাকা রাস্তায় ঘন্টাব্যাপি মনববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়। কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন , কারা অভ্যন্তরে অগ্নিদগ্ধে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু বরণকারী এ্যাডঃ পলাশ কুমারের মা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীরা রাণী রায়, উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শেখ নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও জেলা পরিষদের সদস্য মাজেদুর রহমান বকুল প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে পলাশের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ন্যায় বিচারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে বক্তরা প্রশ্ন তুলে বলেন, জেলা কারাগারে লেখা আছে “ রাখিব নিরাপদ- দেখাব আলোর পথ” কিন্তু পলাশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন ? বক্তব্যে অনেকে বলেন, পঞ্চগড় কারাগার অভ্যন্তরে অগ্নিদগ্ধ আইনজীবি পলাশ কুমার রায়ের ঘটনাটি পরিকল্পিত। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করা হয়। এদিকে আইনজীবি পলাশ কুমার রায়-এর মৃত্যুর ঘটনায় এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

৮মে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল সহ এই আদেশ দেয়। আদেশে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর তত্বাবধানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে বিচারিক তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। এ মানববন্ধনে পলাশের মা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীরা রাণী রায় বলেন, আমার ছেলে পলাশ কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির আইন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের অবৈধ কাজে সহযোগিতা না করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবী করেছিল পলাশ। মিথ্যা অভিযোগে তাকে আবারো জেলে দেয়া হয়। নিরাপদ জেলের মধ্যে কিভাবে সে অগ্নিদগ্ধ হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার দাবী, আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। ২০১৬ সালে কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির করা ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলা ছিল পলাশ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে। মামলাটি প্রত্যাহারের দাবীতে ২৫ মার্চ পরিবারের লোকজন নিয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন পলাশ। পরে তারা জেলা শহরের শেরে বাংলা পার্কের পঞ্চগড়- ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধন শুরু করেন।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুটুক্তির অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারেই ছিলেন আইনজীবি পলাশ। গত ২৬ এপ্রিল পঞ্চগড় কারাগার থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। ৩০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আইনজীবি পলাশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য