সুবিধাভুগিদের কাছে হস্থান্তর না হতেই বাতাসে উড়িয়ে গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের নবনির্মিত আমতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ব্যারাক। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সামান্য বাতাসে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উড়িয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের ধারনা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সিআইসিট ব্যারাক হাউজ নির্মানের লক্ষে ২০১৭সালের ২০জুন তারিখের মধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় ৬একর জমিতে মাটি ভরাট করা হয়। মাটি ভরাটের বরাদ্দ ছিল ৫১১.৭৫৩ মে.টন গম। স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমিতে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে বুঝে দেয়। পরবর্তীতে ভরাটকৃত জমির উপরে ১ কোটি ৮০ লাখ ২২ হাজার ৫২৪ টাকা ব্যায়ে ৫ইউনিট বিশিষ্ট ২৩টি ব্যারাক নির্মান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যাতে আশ্রয় নিতে পারবে গৃহহীন ১১৫টি পরিবার।

গত ডিসেম্বর মাসে নবনির্মিত আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি সেনাবাহিনী কর্তৃক উপজেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্থান্তর করা হয়নি। গৃহহীনদের মাঝে হস্থান্তরের আগেই গত শনিবার ও রোববার রাতের দু’দফা বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ব্যারাকের ১০০টি ঘর লন্ডভন্ড হয়ে অধিকাংশ টিন উড়ে অন্যত্র চলে যায়।

ব্যারাকে আশ্রয় নেয়া শাহজামাল ও হাসেনা বেগম জানান, শনিবার রাতে হঠাত ঝড়োবাতাসে ব্যারাকের ঘরগুলো ভেঙ্গে যায় এবং টিনের চাল উড়ে গিয়ে পাশ্ববর্তী জমিতে পড়ে।

এলাকাবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রশিদ,গোলজার হোসেন,ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামসহ অনেকে কাজের মান নিন্ম হয়েছে দাবি করে বলেন,নিয়ম অনুযায়ী কাঠসহ অবকাঠামো তৈরি না হওয়ায় সামান্য বাতাসেই ব্যারাকের ঘর গুলো লন্ডভন্ড হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গওছল হক বলেন ২৩টি ব্যারাকের মধ্যে ২০টি ব্যারাক লন্ডভন্ড হয়ে টিনের চাল গুলো বিভিন্ন স্থানে উড়ে গেছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন,সেনাবাহিনীর নিকট থেকে আশ্রয়ন প্রকল্পটি বুঝে নেয়ার পর সুবিধাভোগীদের মাঝে ঘর হস্থান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা শুনেছি। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য