দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উন্নতজাতের করলার চাষে লাভবান সৌখিন চাষী মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই কম হওয়ায় তার চাষ করা জমিতে করলার বাম্পার ফলন হয়েছে।

রমজান মাসে বাজারে আগাম সবজি হিসাবে করলার চাহিদা থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি হওয়ায় পুঁজির পাশাপাশি দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি। বীজ রোপণ করে তিনমাস পর থেকে ক্ষেতে করলা ধরতে শুরু করে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। প্রকৃতি বৈরী না হলে এবং বাজার দর ভালো থাকলে আরো চার লক্ষ টাকার করলার বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

করলার চাষে সফল চাষী মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপি’র ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ পাড়ার বাসিন্দা। এছাড়াও তিনি খামারপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আশ্রয়ণ পাড়ার নির্বাচিত সভাপতি।

চাষী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি আগে দীর্ঘ ১১ বছর হোটেল ব্যবসা করে বাকি ও লোকসানে পড়ে ভিটেবাড়ি ও পুজিঁ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ২০০১ সালে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে তার বসবাস শুরু হয়।

এরপর এলাকাবাসীর অনুরোধে পরপর দুই বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে কোন জায়গা জমি না থাকায় কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয়। বর্তমানে রিং স্ল্যাব, ভুট্টা ও ধানের ব্যবসার পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আবাদ করে। ফসলের দাম না থাকায় বারবার লোকসানে পড়তে হয়।

তবে এবার হোসেনপুর ভুল¬ী নদীর পাড়ে ১ বছরের জন্য ৭৮ হাজার টাকা দিয়ে বর্গায় ৩ বিঘা বা ১৭৫ শতক জমি নিয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে জমি উত্তমরূপে তৈরীর পর উন্নতজাতের হাইব্রীড করলার চাষ করেন। এতে বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক ও মাঁচা তৈরির উপকরণসহ তার প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় প্রথম চাষেই বাজিমাত।

চাষী জাহাঙ্গীর আরো জানান, করলা চাষে শ্রম বেশি। ভালো ফলন হলে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয় করলা। তখন লাভ হয়। তবে বৃষ্টি হলেই মাথায় হাত পড়ে। তাছাড়া সার, বাঁশের খুঁটি, বীজ ও শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেশী হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্যে তিনি লাভবান হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন জানান, সমতলের উঁচু জমিতে করলার চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন অধিকাংশ কৃষক। ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বর্গায় নদীর কিনারে অনাবাদি জমিতে করলা চাষ করেন। চাষাবাদে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সফলতা কৃষিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন উপজেলার অনেক কৃষক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য