জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ আর কত সুপারিশ হলে প্রতিবন্ধির চাকুরী হবে? এমন প্রশ্নই এখন অসহায় একটি পরিবারের। যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন করে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তাদের সুপারিশ নিয়ে যথাযথ সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ তথা তথ্য উপাত্ত দিয়েও চাকুরী না পেয়ে চরম হতাশা আর ক্ষোভের সাথে উপরোক্ত প্রশ্ন করেছেন নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো একজন দরিদ্র পিতা।

কান্নাভেজা কন্ঠে আবেগ তাড়িত হয়ে তিনি জানতে চান কি হবে আমার প্রতিবন্ধি ছেলের ভবিষ্যত? প্রধানমন্ত্রী যেখানে প্রতিবন্ধিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকুরী প্রদান সহ সর্বক্ষেত্রে সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধি প্রার্থীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন কেন?

তবে কি এই বিভাগটির কাছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কোন মূল্য নেই। তা না হলে সংসদ সদস্য, বিরোধী দলীয় হুইপ, মন্ত্রী, ডিজি, জিএম সহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সুপারিশকৃত প্রতিবন্ধি কেন মেধা তালিকায় স্থান পেলো না? কি তার অপরাধ? তবে কি অর্থের কাছে সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্যক্তিত্বের সুপারিশ পরাজিত?

এমনই নানা প্রশ্ন তুলে ধরে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট রেল কলোনীতে বসবাসকারী নদী ভাঙ্গনে ভিটে মাটি হারিয়ে দেশান্তর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার দেবজান ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: আলম মিয়া। পেশায় তিনি একজন মুহুরী এবং সৈয়দপুর পৌরসভার বাংলাদশ আওয়ামীলীগের ২ নং ওয়ার্ড শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি।

তিনি বলেন, নদীর গর্ভে সব কিছু বিলীন হয়ে যাওয়ায় সূদুর রাজবাড়ী থেকে এখানে এসে লেখনীর কাজ করে কোন রকমে জীবন চালাচ্ছি। আমার দু’টি সন্তান, এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়ে তমালিকা প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করে। অতিকষ্টে প্রতি সেমিষ্টারে তাকে ১২ হাজার ৮শ’ টাকা খরচ প্রদান করে চলেছি। তার উপর একমাত্র ছেলে মো: শুভ বাক প্রতিবন্ধি (থেতলিয়ে কথা বলে)। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেছে।

বর্তমানে সে বেকার। তার চাকুরীর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের খালাসী পদে রাজবাড়ী কোটায় আবেদন করা হয় এবং গত ২০১৫ সালে ১০ সেপ্টেম্বর এ পদে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছে।

তার এ পদে চাকুরী নিশ্চিত করার জন্য আমি তৎকালীন রাজবাড়ীর মহিলা সংসদ সদস্য মোছা: কামরুন নাহার চৌধুরী (আসন নং-৩৮), নীলফামারী-৪ এর সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ¦ শওকত চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজার রহমান ফিজার, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজমসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা ব্যবস্থাপক ও জেনারেল ম্যানেজার (পশ্চিম) এর সুপারিশ সংগ্রহ করি। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, কি যে কষ্ট করে আমি সুপারিশগুলো সংগ্রহ করেছি তা অবর্ননীয় এবং সে সময় তারা প্রত্যেকেই আমাকে আশ^স্ত করেছিলেন যে একজন প্রতিবন্ধির চাকুরী হলে তা আমার ছেলেরই হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কিছু যেন উল্টো হলো। কিন্তু কেন?

পরবর্তীতে এসব সুপারিশসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ কমিটি (পূর্ব-চট্টগ্রাম) এর সাথেও যোগাযোগ করি। কিন্তু তারপরও গত ১১ মে খালাসী পদের ৮৬৩টি মেধা তালিকার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আমার প্রতিবন্ধি ছেলের নাম নেই। অথচ যারা প্রতিবন্ধি নয় বা এ ধরণের কোন প্রকার সুপারিশ সংগ্রহ করেনি এবং শুধুমাত্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময় করেছে তাদের অনেকের নাম রয়েছে।

এতে আমি আমার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি। এ কারণে মাননীয় প্রধানন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি যে তারা যেন একজন প্রতিবন্ধির জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত না হয়ে পড়ে সেজন্য অবশিষ্ট ২টি পদের যে কোন একটিতে আমার ছেলের বিষয়টি সুবিবেচনা করেন। তা না হলে আমি প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে আরও বেশি অসহায়ত্বের মধ্যে নিপতিত হবো। তাই এ ব্যাপারে সকলের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য