আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রলির চাকায় ডান পা পিষ্ট হয়ে আহত স্কুলছাত্রী রিক্তা আক্তার মুন্নি আবারো ক্লাসে ফিরতে চায়। কিন্তু তার পায়ের যা অবস্থা, তা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরো তিন-চার মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সময়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনেক টাকারও। কিন্তু মুন্নির দিনমজুর বাবার পক্ষে চিকিৎসার সে অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।

রিক্তা আক্তার মুন্নি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের উত্তর জাওরানী এলাকার দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস ভুট্টুর মেয়ে। সে উত্তর জাওরানী সন্যাসীর ডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ডাঙা নজর আলী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হয় মুন্নি। শ্যালোইঞ্জিনচালিত সিমেন্টবাহী একটি ট্রলি তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে যায়। এতে ডান পা পুরোটাই থেঁতলে যায়। ওইদিন থেকেই রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোসার্জারি (নারী) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চলছে তার চিকিৎসা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুন্নি এ প্রতিবেদককে বলে, হাসপাতালে শুয়ে থাকতে আমার আর ভালো লাগছে না। পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। আমি দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চাই। পড়াশোনা করে আমি চিকিৎসক হব।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রায়হান আলী জানান, মুন্নির ডান পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত (অ্যাংকল) নিয়মিত ড্রেসিং করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থা থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জয়েন্টগুলো খুলে গিয়েছিল। ফ্রাকচারও হয়েছে। সম্পূর্ণ মাংস উঠে গিয়েছিল। এখন নতুন করে মাংস হচ্ছে। সার্জারি করে চামড়াও লাগাতে হবে। এতে প্রচুর সময় ও খরচের প্রয়োজন।

মুন্নির বাবা আব্দুল কুদ্দুস ভুট্টু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিনমজুরি করে কোনো রকম সংসার চালাই। মেয়ের চিকিৎসার জন্য সবকিছুই এখন বন্ধ আছে। এক মাসের বেশি হয়ে গেল মেয়ে এখনো সুস্থ হলো না। খাবার টাকাই নেই, কীভাবে মেয়ের চিকিৎসা চলাব? কারো একটু সহযোগিতা পেলে আমার মেয়েটি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারত।

মুন্নির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এখন মুন্নিকে আশঙ্কামুক্ত বলা যেতে পারে। তবে তার ডান পা আগের অবস্থায় না পাওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। তাকে দ্রুত সুস্থ করতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু আরো কত সময় লাগবে, তা বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য