যে সব দেশে রোদ্দুর ক্ষণিকের অতিথি, বছরের মাত্র কয়েক মাস তার দেখা মেলে, সেখানে শরীরে রোদ লাগানোর প্রথা বহুল প্রচলিত। তবে আমাদের মতো দেশে যেহেতু রোদের জ্বালায় অন্তত ১০ মাস তিষ্ঠোনো যায় না, সেখানে আবার সমস্যাটা আলাদা – রোদে পোড়া ত্বকের ঝলমলানি ফিরিয়ে আনতে গিয়েই আমরা নাকানি-চোবানি খাই! সরাসরি ত্বকে রোদ লাগানো, বিশেষ করে সকাল এগারোটা থেকে বিকেল চারটের মধ্যেকার চড়া রোদ কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।

ত্বকের স্বাভাবিক রং হারায়, বলিরেখা পড়ে, ত্বকের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায়, এমনকী স্কিন ক্যানসারও হতে পারে! মনে রাখবেন, দিনের পর দিন রোদ্দুরে ত্বক পুড়লে ক্ষতি হবেই, একা সানস্ক্রিনের সাধ্য নেই তা থেকে আপনাকে রক্ষা করার। তাই সম্ভব হলে সরাসরি রোদ না লাগানোর বন্দোবস্ত করুন, একান্ত বেরোতে হলেও ছাতা, টুপি, স্কার্ফ, পুরোহাতা পোশাকে শরীরের যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন। তার পরেও যে ক্ষতিটা হবে, তা সামলাতে আমাদের বাতলে দেওয়া ঘরোয়া টোটকাগুলিই যথেষ্ট!

লেবুর রস, শসা আর গোলাপজলের মাস্ক: সমান পরিমাণে লেবুর রস, শসার রস আর গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। রাতে বাড়ি ফেরার পর এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে সরাসরি লেবুর রস লাগালে জ্বালা করতে পারে। কিন্তুর শসার রস আর গোলাপ জল থাকায় সেই অসুবিধে হবে না। শসার বদলে ঠান্ডা আলুর রসও লাগাতে পারেন।

বেসন, হলুদ আর দুধের প্যাক: একটা ছোট বাটিতে বেসন নিন, তার মধ্যে মেশান কাঁচা হলুদবাটা, দুধ আর গোলাপজল। থকথকে করে গুলে নিয়ে স্নানের আগে ত্বকে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে চক্রাকারে হাত ঘুরিয়ে তুলে স্নান সেরে নিন। যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা এই মিশ্রণে খানিকটা মধুও মেশাতে পারেন। দুধে অ্যালার্জি থাকলে দই ব্যবহার করুন।

পেঁপে আর মধুর প্যাক: পাকা পেঁপে পেস্ট করে নিন। তার মধ্যে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে তুলে দিন।

দই আর টোম্যাটোর প্যাক: টোম্যাটো ছেঁচে রস বের করে নিন। তার সঙ্গে দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। টোম্যাটো প্রাকৃতিক ট্যান রিমুভার হিসেবে আদর্শ, তবে অনেকের অ্যালার্জি হয় টোম্যাটোর রসে, সে ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করবেন না।

ওটস আর দইয়ের প্যাক: ওটমিলটা দইয়ের মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন খানিকক্ষণ। থকথকে হলে ভালো করে চটকে নিন, তার পর মুখে লাগিয়ে রাখুন শুকনো হওয়া পর্যন্ত। ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন শেষে।

মসুর ডালবাটা, অ্যালো ভেরা আর টোম্যাটোর প্যাক: মসুর ডাল বেশ খানিকক্ষণ ভিজিয়ে বেটে নিন, তার মধ্যে মেশান অ্যালো ভেরা আর টোম্যাটোর শাঁস। মিশিয়ে মুখে মাখুন। 20 মিনিট পর ধুয়ে নিন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য