সারাক্ষণ আপনার মনটা পালাই পালাই করে? অফিসের কাজে মন নেই, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা আর আগের মতো উপভোগ করেন না – ফাঁক পেলেই হয় ফোন, না হলে কম্পিউটারের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোথা দিয়ে কেটে যায় কোনও হুঁশই থাকে না? বিশেষ করে ছুটির দিনে ঘরের বাইরে পা না রেখে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পছন্দমতো শো চালিয়ে বসে পড়েন? প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তর হ্যাঁ হলে তো আমাদের টিপসগুলি একবার ট্রাই করে দেখতেই হবে। যাঁরা সরাসরি এই ধরনের কোনও সমস্যাতেই ভুগছেন না, তাঁরাও সমাধানগুলি জেনে রাখুন, কোনও না কোনওদিন বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের কাজে আসবেই!

প্রথম ধাপ
ঠিক কতক্ষণ সময় আপনি ফোন বা কম্পিউটারে ব্যয় করছেন, তার হিসেব রাখুন। এর মধ্যে খানিকটা কাজের জন্যই করতে হয়, সেটা বাদ দিন। কিন্তু তা ছাড়া যতক্ষণ সময় আপনি গ্যাজেটের সঙ্গে ব্যয় করছেন সে সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা তৈরি করুন। দরকারে টানা সাতদিন এই হিসেবটা রাখুন। গ্যাজেট যদি অবসরের সিংহভাগটাই অধিকার করে নেয়, তা হলে আর জীবনের বাকিটা কী রইল? এই জায়গা থেকেই আপনাকে জীবনের রাশ ধরতে হবে। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করুন, কথাবার্তা বলুন। পরিবারের সকলের সঙ্গে সময় কাটান। তেমন কেউ নেই? তা হলে নিজের স্বাস্থ্যের সর্বাঙ্গীণ খেয়াল রাখুন, ব্যায়াম করুন, নিজেই রান্না করে পুষ্টিকর খাবার খান। আপনি অসুস্থ হলে বা অফিসে কোনও সমস্যা হলে কিন্তু এই ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোই কাজে আসবে! মনের কথা খুলে বলার জন্য মানুষ লাগে, গ্যাজেট দিয়ে সেই ফাঁকটা ভরানোর চেষ্টা করবেন না।

দ্বিতীয় ধাপ
নিজেকে প্রশ্ন করুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটা নীল স্ক্রিনের বিপরীতে বসেই কি আপনি জীবনটা কাটাতে চান? একেবারে একা, নির্বান্ধব অবস্থায়? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তা হলে জেনে রাখুন, ক্রমশ আপনার চারপাশের পৃথিবীটা হারিয়ে যাবে, আপনি কাজেও মন বসাতে পারবেন না চট করে। সেভাবে বাঁচা ক্রমশ কঠিন হয়ে যাবে। নিজেকে এই অন্ধকূপ থেকে টেনে বের করতে পারেন একমাত্র আপনিই। মনটাকে স্থির করুন আগে, সমস্যাটা স্বীকার করে নেওয়াই সাফল্যের প্রথম ধাপ।

তৃতীয় ধাপ
এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত হোন, যা করলে আপনার সত্যিই ভালো লাগে, আনন্দ হয়। পছন্দের শোয়ের একটার পর একটা এপিসোড দেখলে হয়তো মাথাটা ভর্তি হয়, কিন্তু আপনি আনন্দ পান কী? সেই সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটান, অনাথ বাচ্চাদের স্কুলে পড়াতে যান, রাস্তায় হাঁটুন, বেকিং ক্লাসে ভর্তি হোন। সৃষ্টিশীল কোনওকিছুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তৃপ্তিটাই আলাদা!

চতুর্থ ধাপ
তাই বলে আপনার প্রিয় শো-এর সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আমরা হাজির হইনি কিন্তু! যে কোনও পোর্টালেই আপনি টানা না দেখে প্রতিদিন এক-আধটা এপিসোড দেখতে পারেন। এক কালে তো আমরা সবাই এভাবেই সিরিয়াল দেখতাম! সেই পুরোনো নিয়মেই ফিরে যান, কোনও অসুবিধে হবে না। তাতে সারাক্ষণ মাথার মধ্যে অস্থিরতাও থাকবে না, ধৈর্যও বাড়বে ধীরে ধীরে।

পঞ্চম ধাপ
প্রথম চারটি ধাপ পেরিয়ে পঞ্চম ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার অর্থ হচ্ছে আপনি নিজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। প্রতিদিন ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় কিছুতেই ব্যয় করবেন না কোনও গ্যাজেটেই, এই একটা নিয়মই আপনাকে সচেতনভাবে মেনে চলতে হবে। বাকি সব তো আপনি জানেনই!
-ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য