ইস্টার সানডে’র দিনে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলার পর দেশটিতে বেড়েছে মুসলমানদের হয়রানি করার ঘটনা। এসব বিদ্বেষী ঘটনার বিষয়ের রিপোর্ট করতে মুসলমানদের জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। হামলার পর থেকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতার বিষয়ে প্রতিদিন শত শত রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে ওই মুখপাত্র জানিয়েছেন, নারীদের হিজাব ও বোরকা নিয়েই বেশি করে ঘৃণা ও সহিংসতার ঘটনার রিপোর্ট পাচ্ছেন তারা।

২১ এপ্রিল (রবিবার) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা এবং তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় ৪২ বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২৫৮ জন নিহত হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাওহিদ জামাত বা এনটিজে নামে পরিচিত শ্রীলঙ্কার স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা জাহরান হাশিম মোহাম্মদকে হামলার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করছে সে দেশের সরকার। আইএস-এর পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তাদের নেতা বাগদাদির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে হাশিমের পরিকল্পনা মাফিক ওই হামলা হয়েছে। এই হামলার পর থেকে দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষের ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল সে দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা।

শ্রীলঙ্কার মুসলমানদের সংগঠন অল সাইলন জমিয়াতুল উলামা (এসিজেইউ)-এর প্রেসিডেন্ট মুফতি মোহাম্মদ রিজভি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুষ্টিমেয় ব্যক্তি বিশেষের হয়রানি ও নিপীড়নমূলক কর্মাকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়’। এসিজেইউ-এর এক মুখপাত্র বলেন, এখন মারাত্মক মুসলিমবিদ্বেষী নিপীড়ন চলছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেশ শ্রীলঙ্কার দশ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মাবলম্বী। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মুসলিম ধর্মাবলম্বীর বাস।

মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার উদাহরণ হিসেবে দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে পুয়াকপিতিয়ার একটি স্কুলে হিজাব পরা মুসলমান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া ছাড়াও হয়রানি করেছে অভিভাবকেরা। হিজাব পরে হিসাবরক্ষকের চাকুরি করা ফাতিমা রহমান নামে এক নারী বলেছেন, ‘ভয় আমাদের গ্রাস করেছে। কোনও সুপারমার্কেট বা ব্যাংকে যেতে ভয় লাগে। কারণ নিরাপত্তা প্রহরী ও কর্মকর্তারা আমাকে দেখে চিৎকার করেছেন এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে আমার। উবার চালকেরা আমার যাত্রা বাতিল করেছে, রিকশাচালকেরা আমাকে দেখে দাঁড়ায় না’। মুসলমান উবার চালক বা ব্যবসায়ীরাও তাদের রাইড ও ব্যবসা কমে যাওয়ার ঘটনা জানিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনীর মুখ ঢাকা বোরখা নিষিদ্ধ এবং মুসলমানদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানোর ঘটনাও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে বহু মুসলমানকে আটক করা হয়েছে। খেলনা ড্রোন, খেলনা ওয়াকিটকি বা হাদিসের বই রাখার কারণেও আটকের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রীলঙ্কার উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী রউফ হাকিম বলেছেন, ইস্টার সানডে হামলার পিছনে কোনও গোপন হাত রয়েছে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য