দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার হিলি- ঘোড়াঘাট সড়কের জালালপুর ব্রীজের কাছে গণ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এঘটনার ডাকাতির মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

দিনাজপুর হাকিমপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দিনগত রাতে এই ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে থানায় একটি ডাকাতি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে। খুব শিঘ্রই তাদের আইনের আওতায় গ্রেফতার করা যাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে হিলিস্থলবন্দর আমদানী-রপ্তানী কারক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন জানান, হিলি স্থলবন্দর থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, মটরসাইকেল, অটোরিক্সা সহ পথচারিরা হিলি ভায়া ঘোড়াঘাট বগুড়া সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে গত বুধবার দিনগত রাতে ডাকাতেরা সড়কে মুরগির বিষ্টার বস্তা (লিটার) ফেলে দেশিয় অস্ত্র ঠেকিয়ে আধাঘন্টা ধরে ডাকাতি করে। এসময় তারা সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ কয়েক লক্ষ টাকা ডাকাতি করে নেয় এবং মারধর করে।

ঘটনাস্থল হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী গ্রামের মোফাচ্ছের হোসেন ও রিয়াজুল হোসেন সহ অনেকে জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে অটোভ্যানে করে তারা হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক অফিস বন্ধ করে ছাতনী গ্রামের বাড়ীতে ফিরছিলেন। এসময় তারা হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের জালালপুর ব্রিজের কাছে গেলে ৫/৬ জন ডাকাত তাদের গলায় হাসুয়া ও রামদা ধরে জিম্মি এবং মারধর করে। পরে তাদের কাছ থেকে ব্যবসার ১ লাখ ৬ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল ফোন ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার ৮/১০ মিনিট পর হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তারা এদিক-ওদিন টর্চলাইটের আলো মেরে আবার চলে যায়।

হিলি স্থলবন্দরের মুন্সীপাড়ার জাবেদ হোসেন রাসেল জানান, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মোটারসাইকেলে করে ছাতনী চৌমুহনীতে তার নিজ খামারে যাওয়ার পথে ওই ব্রীজের কাছে পৌছিলে ডাকাত দল মুরগির বিষ্টার বস্তা ফেলে গতি রোধ করে। এসময় তার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা ১টি মোবাইল ডাকাতি করে নেয়। এই ঘটনার পর লোকজন সন্ধ্যার আগেই বাড়ী ফিরছেন। তিনি ওই সড়কে প্রতি রাতে পুলিশ প্রহরার দাবী জানান।

উপজেলার ছাতনী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে ডাকাত দল তার ব্যাবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি সহ অনেকে জানান, ডাকাতেরা ওই সময় ৪/৫টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক, ৮/১০ মটরসাইকেল, ৪/৫টি অটোরিক্সা সহ অন্তত ৩০ জন পথচারিকে দেশিয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে গণহারে ডাকাতি করে নেয়।

হিলি স্থলবন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সেলিম উদ্দিন জানান, রহরহ ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও ডাকাত দলের সদস্যরা ধরা পড়ছে না। গত ১ সপ্তাহে ওই রুটে প্রায় ৬/৭টি ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, এটা ডাকাতি না। কয়েকটা মোবাইল ছিনতাই হয়েছে। পুলিশ মাদক প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য