জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ২৮ জন মহিলার ভিজিডি’র সঞ্চয়ের প্রায় ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মহিলারা প্রায় ৫ মাস যাবত টাকা উত্তোলনের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে বার বার ধর্ণা দিয়েও তাদের সঞ্চয় উদ্ধার করতে পারেনি। এমতাবস্থায় হতদরিদ্র ওই মহিলারা চরম হতাশায় পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মো: আনোয়ার হোসেন’র স্ত্রী মোছা: তাজমুন নেছা যার কার্ড নং ৭৯। তিনি জানান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিনে হতদরিদ্র মহিলাদের জন্য ভিজিডি’র মাধ্যমে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

এ চাল নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংগ্রহ করা এবং প্রতিমাসে চাল নেয়ার সময় সঞ্চয় বাবদ ন্যুনতম ১০০ টাকা করে জমা দিতে হয়। এভাবে ২ বছর যাবত চাল নেয়ার সময় সঞ্চয় করলে মেয়াদ শেষে সমুদয় সঞ্চয় ও লভ্যাংশ একসাথে দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ২৮ জন নারী তাদের সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে বার বার ধর্না দিয়েও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। তারা একবার বলছেন টাকা পাওয়া যাবে আবার বলছেন আপনাদের সঞ্চয় যে এনজিও’র মাধ্যমে কালেকশন করা হয়েছিল তারা প্রকল্প শেষে চলে গেছে। তাই তাদের কাছ থেকে টাকা না পাওয়া গেলে দেয়া সম্ভব হবেনা। এই পরিস্থিতিতে ২৮ জন মহিলার প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খোয়া যাওয়ার অবস্থা দেখা দিয়েছে।

তাজমুন নেছ্ াআরও বলেন, আমার মনে হচ্ছে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করা সহ টাকাগুলো আত্মসাতের অপচেষ্টা করছেন। তা না হলে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের সকল মহিলা তাদের ভিজিডি’র সঞ্চয়ের টাকা পেলেও আমাদের ক্ষেত্রে কেন এনজিও’র দোহাই দেয়া হচ্ছে। এমনকি বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রুপের মহিলারাও তাদের সঞ্চয় পেয়েছে।

তাই এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধান দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, টাকার বিষয়ে জানার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে গেলে অফিসের কর্মচারী হামিদুর রহমান আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন এবং সমাধান হলে ডেকে নিয়ে টাকা দেয়া হবে বলে অফিসে বার বার না আসার জন্য ধামকি দেন। পরে অবশ্য সঞ্চয় উত্তোলনের জন্য টাকা খরচ করতে হবে বলে জানান হামিদুর।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুর নাহার শাহজাদীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মূলত: ওই ২৮ জন মহিলার সঞ্চয়ের টাকা কালেকশন করতো ঝিনাইদহের বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট এক্সিবিউটিভ সোসাইটি (ডাস্) নামের একটি এনজিও।

তারা প্রকল্প শেষে চলে যাওয়ার সময় হিসেবে বেশ গড়মিল রেখে যায়। যে কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের। দ্রুতই এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং মহিলারা তাদের সঞ্চয়ের টাকা অবশ্যই পাবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য