পাকিস্তানের লাহোর শহরে একটি মাজারের কাছে বিস্ফোরণে অন্তত আট জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন।

রোজা শুরুর একদিন পর বুধবারের সকালের এ হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ ও তিন বেসামরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য ডন।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহরের দাতা গঞ্জে বক্শর দরবারের কাছে এলিট ফোর্সের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়, যাকে আত্মঘাতী হামলা বলে বণর্না করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

তাৎক্ষণিকভা কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

‘দাতা গঞ্জে বক্শ’ নামে পরিচিত সুফি আলি বিন উসমান আল হাজভেরির মাজার ‘দাতা দরবার’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় মাজার। প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত এই মাজারটি দেখতে আসেন।

পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দাতা দরবারের দুই নাম্বার গেটের কাছে এলিট ফোর্সের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। বিস্ফোরণে গাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি আত্মঘাতী হামলা ছিল বলে তাদের সন্দেহ এবং পুলিশের টহল দল লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়েছে।

বোমাটিতে সাত কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উদ্ঘাটিত হয়েছে।

বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে এলিট ফোর্সের পাঁচ সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আরিফ নেওয়াজ। হামলার তিন বেসামরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “হামলাটি ১০০% পুলিশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।”

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজারটির চারদিকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামলাকারী যে দিক থেকে এসে হামলাটি চালিয়েছে তাতে আরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো, কিন্তু মাজারের নিরাপত্তায় পুলিশের গাড়ি মোতায়েন থাকায় আর সেটি তার সামনে পড়ে যাওয়ায় তা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

আহতদের স্থানীয় মায়ো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্য সচিব সাকিব জাফর হাসপাতালটিতে অবস্থান করছেন।

ডননিউজটিভির তথ্যানুযায়ী, ২৬ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

বিস্ফোরণের পরপরই দ্রুতগতিতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে। মাজারটি খালি করে ফেলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের বিস্ফোরণস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে সশস্ত্র পুলিশের একটি বড় দল মোতায়েন করা হয়েছে। মাজারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতের প্রতি শোক এবং তাদের পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য