দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে বাম্পার ইরি-বোরো ধান অর্জিত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে অর্জিত হয়। ইরি-বোরো ধান কর্তন শুরু হয়ে গেছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ তৌহিদুল ইকবাল জানান, গত ১ মে থেকে জেলায় ইরি-বোরো ধান কর্তন শুরু হয়ে গেছে। ভয়াবহ দুর্যোগ ফনীর কারণে ধান কর্তন কিছুটা পিছিয়ে গেছে। ভয়াবহ ঘুনিঝড় ফনীর পুর্বাভাসের কারণে সারাদেশের কৃষকেরা হতাশার মধ্যে অতিবাহিত করছিল।

ঘুনিঝড় দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পর জেলার ১৩টি উপজেলাতে ধান কর্তনের মহাউৎসব শুরু হয়ে গেছে। এবারে ইরি-বোরো ধানের অনুকুল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় সেচ, রাসায়নিক সার এবং পোকা ও ঘাস নির্মুলে ওষুধ সঠিক সময়ে প্রয়োগের কারণে বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের সূত্রটি জানায়, জেলায় ১ লক্ষ ৭২ হাজার ১২৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকুল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি এবং দিক নির্দেশনার কারণে এবারে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ইরি-বোরো ধান অর্জিত হয়।

ফলে জেলায় এবারে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ অর্জিত হয়েছে। অর্জিত ধান থেকে এবারে ৭ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। জেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ জনসাধারণের চাহিদা বছরে ৭ লক্ষ মেট্রিক টন চাল নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমে এবারে জেলায় প্রায় ১৪ লক্ষ

মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত ৭ লক্ষ মেট্রিক টন চাল এই জেলা থেকে দেশের অন্য জেলার খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। সূত্রটি জানায়, সারা দেশে জনশ্রুতি রয়েছে দিনাজপুর দেশের একটি শষ্য ভান্ডারে পণ্য খাদ্যের জেলা হিসেবে পরিচিত। এই জেলার ধান উৎপাদনে কৃষি বিভাগ পুর্বের তুলনায় এখন আধুনিক প্রযুক্তির ধানের বীজ সরবরাহ এবং কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সঠিক মাত্রা প্রয়োগে দিক নির্দেশনা প্রদান করায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক রেখে ফলন দ্বিগুন পাওয়া যাচ্ছে। এই ভাবেই কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকেরা ধানের উৎপাদনে বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

আগামী ৩১ মের মধ্যে জেলার অর্জিত ইরি-বোরো ধান কর্তন কাজ শেষ হবে। এরপরই মাড়াই ও চাল সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এবারে জেলায় কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মাহমুদ ইকবাল জানান, এবারে জেলায় ৯৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ক্রয় করা হবে। এর মধ্যে চালকল মালিকদের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদনের কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। ৮৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সিদ্ধ এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল ও সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে।

প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৩৫ টাকা এবং ধান ২৬ টাকা কেজির মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে চালকল মালিকদের নিকট থেকে চুক্তি সম্পাদিত চাল সংগ্রহ শুরু হবে। কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ধান ক্রয় আগামী ১৮ মে থেকে শুরু হবে। জেলার ২৬টি এলএসডি এবং ১টি সিএসডি গুদামে মোট ধারণ ক্ষমতা ১ লক্ষ ৫ মেট্রিক টন। বর্তমানে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ও গম মজুদ রয়েছে।

ভিজিএফ, ভিজিডি এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে চাল সরবরাহ দিয়ে অনেকটাই গুদামে স্থান খালি থাকবে। চাল সংগ্রহে কোন বিঘœ ঘটবে না বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য