দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আগামী বাজেটে নিম্নমানের গুড়াদুধের উপর আমদানী শুল্ক বৃদ্ধি ও এন্টি ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপ করাসহ ১০ দফা দাবীতে দিনাজপুরে বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন দিনাজপুর শাখার আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন দিনাজপুর শাখার প্রেসিডেন্ট শেখ নাসিম আলী কচি, সেক্রেটারী জেনারেল শ্যামল কুমার ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ ও মোঃ তুহিন আকতার, সদস্য শামসুল আলম রাজিবসহ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশ ছোট দেশ গাভী পালনের জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই ইউরোপিয়ান দেশের মতো, এ জন্য গাভী পালা সম্ভব নয়” এই ধারনাকে ভুল প্রমানিত করে আমরা বেরিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ প্রকৃতিক বৈচিত্রময় এমন একটি দেশ যেখানে বছরে একই জমিতে ৩ থেকে ৪ বার ফসল উৎপাদন করা হয়।

যা বিশ্বে দুগ্ধ উন্নত অনেক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সাইলেজ বা ঘাস সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারিরা অধিক উৎপাদনশীল ভুট্ট পাকচং ঘাস চাষ করে গো খাদ্যের অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারী ও বেসরকারী সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে গেছে।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের জনগনের পুষ্টির নিশ্চয়তা সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই ক্ষেত্রে জনগনের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিই একমাত্র পথ। সচেতনতার অভাবে আমরা নিরেজরাই অনেক দুধ পান করি না এবং বাচ্চাদের হাতে দুধের বদলে এনার্জি ড্রিংক কিনে দেই। প্রতিজনের ২৫০ মিলি দুধের প্রয়োজনের হিসাবে দেশে ৫১% দুধের ঘটতি আছে, আমদানীকারকের এই তথ্য একেবারেই সঠিক নয়।

আমাদের সচেতনতার অভাবে দেশের ৫০% মানুষ দুধ পান করে না। ফলে দেশে যে দুধ উৎপাদন হয় তা বর্তমান চাহিদার খুব কাছাকাছি এবং সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকায় খামারিদের দুধ অবিক্রিত থেকে যায়। কোথাও কোথাও ২২ থেকে ২৫ টাকা লিটার দামে দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হয় খামারিতে।

মানববন্ধনে অবিলম্বে ১০ দফা দাবী মেনে নেয়োর আহ্বান জানান বক্তারা। দাবীগুলো হলো- নিম্নমানের ভুর্তুকীপ্রাপ্ত গুড়া দুধের উপর এন্টি ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপ ও আমদানী শুল্ক বাড়িয়ে ৫০% এ উন্নীত করা, বিগত ১৫ বছরে মুদ্রাস্ফিতীর সাথে সমন্বয় করে খামারিদের তরল দুধের ন্যায্য দাম সরকার থেকে নিশ্চিত করা, তরল দুধের সঠিক বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা, দুগ্ধ প্রসেসিং কোম্পানীদের সাথে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে তরল দুধের দাম সমন্বয় সাধন করা, এলাকাভিত্তিক খামারিদের দুধ সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা তৈরী করা, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার থেকে দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক টিভিসি প্রোগ্রাম করা, গো-খাদ্য আমদানীতে সকল শুল্ক প্রত্যাহার করা, আধুনিক খামার ভিত্তিক সকল বৈদেশিক যন্ত্রপাতি আমদানীতে সকল শুল্ক প্রত্যাহার করা, বাণিজ্যিক নয় বরং কৃষির আওতায় দুগ্ধ খামারের বিদ্যুৎ ও পানির বিল আনা এবং পোল্ট্রি ও মৎস শিল্পের মত দুগ্ধ খামারিদের আগামী ২০ বছরের জন্য আয়কর মুক্ত বা ট্যাক্স হলিডে দেয়া হোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য