মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ৮নংওয়ার্ড মুজাবুরুর্ণী প্রধান পাড়ায়, প্রায় দুই একর ফসলি জমির ধান আগাছা নাশক বিষ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে প্রতিবেশী জাকির এমনটিই অভিযোগ তুলেছেন দুই কৃষক।

সোমবার সরজমিনে সদর উপজেলার মুজাবুরুর্ণী প্রধান পাড়ার পশ্চিম মাঠে গিয়ে কৃষক মমিন ও কৃষক মানিক এর ফসলি জমির ধান ক্ষেতে দেখা যায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ ধানক্ষেত পুড়ে নষ্ঠ হয়ে গেছে। রবিবার ভোর রাতে এমন ঘটনা করেছে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।

কৃষক মোঃ মমিন বলেন, আমি মোট ৭৫শতক জমিতে বোরো-তেজগুল ধান রোপন করি। প্রতিদিনের ন্যায় আজ সকালেও আমার জমিতে লাগানো ধানক্ষেত দেখতে আসি। এসে দেখি আমার ফসল একেবারে পুড়েছাই হয়ে গেছে। এলাকার বিএসকে জানাই তিনি এসে দেখেন ধানক্ষেতে আগাছা নাশক বিষদেওয়া হয়েছে বলে তিনি ধারনা করছেন। এবং তিনি আমাদের জমিতে পানি সেচ দিতে বলেন। আমরা জমিতে পানি সেচ দিলাম কিন্তু কোন লাভ হচ্ছেনা।

মমিন আরও জানান, উপায় অন্তর না পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানাই তিনি এই ওয়ার্ডের মেম্বার সহ এসে আমাদের ধানক্ষেত দেখেন। তিনাকে সবকিছুই খুলে জানালে তিনি প্রতিবেশী জাকির এর বাসায় গিয়ে একটি নতুন বিষ স্প্রেকরা মেশিন উদ্ধার করে। বাসায় থাকা জাকিরের স্ত্রী ও শেলক জানান মেশিনটি জাকির প্রায় তিনদিন আগে বাজার থেকে ক্রয় করেছেন তবে তিনাদের দাবী সেটা এখনও ব্যবহার করা হয়নি। চেয়ারম্যান তিনার চৌকিদার দারা চেক করে দেখেন স্প্রেকরা মেশিনে বিষের গন্ধযুক্ত পানি আছে পরে সেটা তিনি জব্দ করে ওয়ার্ড আওয়ামী সভাপতি- সফিউল আলম এর কাছে জমা রাখেন।

কৃষক মোঃ মানিক জানান, আমি মোট ৫০শতক জমিতে বোরো-২৯ ধান রোপন করি। আমার জমির ধান কালকেও ভাল দেখে গেছি আজ সকালে এসে দেখি জমির ধান লাল হয়ে পুড়ে গেছে। পুরো মাঠে শুধু আমাদের দুজনের জমির ধান এ-রকম হয়েছে আর বাকি সকলের জমির ধান ভাল আছে । যদি প্রাকৃতিকভাবে ফসল নষ্ট হতো তাহলে শুধু শুধু আমাদের দুজনেরটা কেন হবে। সবারটাই হবে। সন্দেহ আমার হচ্ছে কে করতে পারে। একটা স্প্রেকরা জারকিন চেয়ারম্যান উদ্ধার করেছে এখন দেখাযাক তিনি কি করেন। আমরা একে বারে নিংশ্ব হয়ে গেলাম। এর সুষ্ট বিচার চাই।

মুজাবুরুর্ণী প্রধান পাড়ার বাসীন্দা মোঃ বিপু আরমান জানান, আমাদের মাঠে আগাছা নাশক দিয়ে ধান ক্ষেতগুলো নষ্ট করেছে। আমাদের ধারনা প্রায় ৮০/৯০মণ ধান নষ্ট করেছে তারা। এই দুই পরিবার পুরো নিংশ্ব হয়ে পড়েছে। তারা মানুষের জমি বরগা করে খায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।আমরা এলাবাসী এই রকম নেক্কারজনক কাজের নিন্দা জানাই এবং এর সুষ্ট বিচার দাবী করছি।

দেবীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং তাৎক্ষনিক ঘনাস্থলে গিয়ে কৃষক মমিন ও মানিক এর ধানক্ষেত পরিদর্শন করেছি। তাদের ধানক্ষেতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফসল পুড়ে নষ্ঠ হয়ে গেছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই দুই পরিবারের। সেখানে জাকির নামের এক ব্যাক্তিকে তারা সন্দেহ করেছে। এবং তার বাড়ি থেকে আমরা একটি বিষ স্প্রেকরা মেশিন উদ্ধার করেছি। পুরো ব্যাপারগুলি আরও ভালমত খোজখবর নিয়ে সুষ্ঠভাবে সুরাহা করার চেষ্টা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য