সংবাদ সম্মেলনঃ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে শপথ নেয়ার আগেই খাসপুকুর ডাক নিয়ে হুমকী, সরকারী ইজারা তোলা বন্ধ, মেলার ডাকের নামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত, সরকারী কাজে বাধা প্রদানসহ কোন প্রকার উস্কানী ছাড়াই নিরীহ মানুষের উপর গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দিলীপ কুমার বোস বলেন, নৌকার প্রার্থী হওয়ায় আতাউর রহমানকে আ’লীগের সকল অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পরে শপথ নেয়ার আগেই তিনি উপজেলার খাসপুকুর ডাক নিয়ে ভুমি অফিসের কমর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডাকে তৃতীয় হওয়া ব্যক্তিকে হুমকী দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদে তিনি যেটাই করবেন সেটাই আইন ও তার হুকুমে উপজেলা পরিষদ চালাতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

আতাউর রহমান দাউদপুর হাটে ইজারাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ইজারা তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং মোগরপাড়া ঐতিহাসিক বারনি মেলা ইজারার নামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেছেন। তিনি একের পর এক সরকারী কাজে বাধা দিচ্ছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে করতোয়া (মাইলা) নদী খনন কাজে ডিগলারেশন না দিয়ে চুপেচাপে কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারের পক্ষ নিয়েছেন আতাউর রহমান ও তার ছেলে শফিউল ইসলাম পিলু। এই কাজের কিছু অনিয়ম ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কিছু জমি পড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ প্রতিবাদ জানায় এবং সিডিউল ও আইন মোতাবেক কাজ করার অনুরোধ জানায়। এরপরেও কাজের উদেবআধন ও খনন কাজ শুরু করলে স্থানীয় মানুষ বিষয়টি আওয়ামী যুবলীগকে অবহিত করে।

এ সময় আতাউর রহমানের ছেলে শফিউল ইসলাম পিলু অশোভন আচরনসহ মা-বাপ তুলে গালিগালাজ করে ও অস্ত্র নিয়ে মারার জন্য তেড়ে আসে। পরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা শর্টগান দিয়ে সাধারন জনগনের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। যাতে রঞ্জু মিয়া, মাজহারুল ইসলাম লিটনসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয় এবং সাধারন মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়।

পরে আতাউর রহমানের লোকজন সেখানে থাকা ৩৮টি মোটরসাইকেল ভেঙ্গে চুরমার করে। এ সময় আহত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সাধারন জনগনকে মারধোর ও অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। যাদেরকে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি করে বলা হয়, ‘আওয়ামী পরিবারে ঘাপটি মেরে বসে থাকা এই সুবিধাবাদী, দুঃচরিত্র, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, একাধিক মামলার আসামী আতাউর রহমানকে দলীয় সকল কর্মকান্ড থেকে অব্যাহতিসহ প্রশাসন এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি। এছাড়াও নবাবগঞ্জে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও জনগনের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শর্টগান দ্রুত জব্দ করে লাইসেন্স বাতিল করা হোক।’

গুলি করার ঘটনায় আতাউর রহমান, তার ছেেেল শফিউল আলম পিলুসহ ৩৮ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ৮০/৯০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০২, তাং-০১/০৫/১৯)। এই মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহ মো: জিয়াউর রহমান মানিক, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীনুর রহমান সবুজ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান রানা, সাজেদুর রহমান রানাসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য