দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ তসলিমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা নিজপাড়া গ্রামে স্বামী মতিউরের নেতৃত্বে গত ২৭ এপ্রিল সকালে পরিবারের সদস্যদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় শিবরামপুর ইউনিয়নের ভেলাপুকুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে আলিম পাশ মাদ্রাসার ছাত্রী তসলিমা বেগম।

তাকে মারপিঠ ও আহত করে পা ভেঙ্গে পরিকল্পিত ভাবে শোওয়ার ঘরে আটক করে রাখা হয়। সংবাদ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এম এ খালেক সরকার থানা পুলিশের সহযোগীতায় ২৮ এপ্রিল সকালে তসলিমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৪ এপ্রিল শনিবার এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে গেলে তসলিমার ভাই মওলানা আব্দুল বাসার জানান ৩ বছর আগে নগত ১ লাখ টাকা ও অনুষঙ্গিক উপটোকনসহ ৩ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে নিজপাড়া গ্রামের মতিউরের সাথে বিয়ে দেওয়া হয় তসলিমাকে। বিয়ের পর ৫/৬ মাস থেকে শুরু হয় যৌতুকের জন্য নির্যাতন, তসলিমা পিতার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিলে নির্যাতন বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয় নির্যাতন। একারণে ইতিপূর্বে স্বামীর বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছিলাম যা বিচারধীন রয়েছে।

পরর্বতীতে দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের শালিস বৈঠকের মাধ্যমে তসলিমার স্বামীর তসলিমাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। গত ২৭ এপ্রিল অর্থ লোভী, পাষন্ড স্বামী আবারো শারীরিক নির্যাতন করে পা ভেঙ্গে শোওয়ার ঘরে আটকে রাখে।

চেয়ারম্যান সংবাদ পেয়ে পুলিশের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। উল্লেখ্য, জানা গেছে তসলিমার স্বামী এক সন্তানের জননী পূর্বের স্ত্রী কারেন্টে শকে নিহত।

নির্যাতনের বিরুদ্ধে নুতুন করে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য