প্রায় তিন বছর ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজার দায়িত্ব পালন করছেন। এবার বৌদ্ধ ধর্ম ও ব্রাহ্মণ রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করলেন। শনিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে হয় রাজা মাহা ভিজারালংকর্ন এর অভিষেক অনুষ্ঠান।

দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগেই নিজের দেহরক্ষি বাহিনীর উপ-প্রধান সুথিদাকে বিয়ে করে রানীর মর্যাদা দেন। এর আগে তিনটি বিয়ে করলেও তাদের তালাক দেন। তাই সুথিদাই সেই সৌভাগ্যবান নারী যিনি প্রথার বাইরে স্ত্রী হিসেবে রাজপরিবারে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। আর তাকে সঙ্গে নিয়েই হলো রাজার আনুষ্ঠানিক অভিষেক।

প্রায় সাত দশকের নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র থাইল্যান্ডে বিদ্যমান। সেই প্রথা অনুযায়ী শনিবার ভিজারালংকর্ন আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহন করলেন। যদিও ২০১৬ সালে বাবা রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের মৃত্যুর পর থেকেই রাজপুত্র হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজার দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এ দিন উত্তরাধিকার হিসেবে ভিজারালংকর্নকে নিজের নাম ও উপাধি সম্বলিত রাজকীয় সোনালী প্ল্যাক, রাজকীয় জাতক, রাজকীয় সিল তুলে দেয়া হয়। এরপর রাজা নিজের রাজকীয় পোশাক পরিধান করেন।

ভিজারালংকর্ন প্রধান ব্রাহ্মণ থেকে রাজকীয় পাঁচটি উপদেশ বাণী সম্বলিত আর্টিকেলও গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানে রাজাকে ঈশ্বরের প্রতীক বা দেবারাজা হিসেবে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে রাজ প্রাসাদের বাইরে রাজার ছবি ও জাতীয় পতাকা নিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত ছিলেন। বর্তমান সামরিক জান্তার অধীনে নির্বাচনের পর দেশটির ভবিষ্যত রাজনীতি এখন অনিশ্চয়তায়। এই অবস্থায় অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল।

অভিষেক অনুষ্ঠানে রানী ছাড়াও রাজপরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজা মাহা ভিজারালংকর্ন বলেন, আমি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য সর্বদা নিয়োজিত থাকব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য