বন্ধুদের সাথে স্বামীর বিছানায় ভিজে তোয়ালে রাখা বা ময়লা মোজা যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার কথা শেয়ার করার মধ্যে দিয়ে মহিলারা একধরনের সান্ত্বনা খোঁজেন৷

রিলেশনশিপ কাউন্সিলররা অবশ্য বন্ধুদের কাছে স্বামীর এত নিন্দে না করার পরামর্শই দিচ্ছেন৷ ম্যারেজ কাউন্সিলরে মতে, “সবাইয়ের আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করা বা ভালো-মন্দ রায় দেওয়ার অধিকার নেই৷

এটা সত্যি যে, পুরুষদের চেয়ে মহিলারাই তাঁদের স্বামীদের ত্রুটিপূর্ণ আচরণ নিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন বেশি।”

এ বিষয়ে নানা মত
কিন্ডারগার্টেন টিচার লুবনা রহমান প্রকাশ্যে সঙ্গীর বদভ্যাস নিয়ে চর্চার বিপক্ষে৷ তাঁর বক্তব্য, “স্বামী রাতদিন ক্রিকেট নিয়ে মশগুল থাকে, তা নিয়ে আলোচনা করা এক ব্যাপার, আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটা-ছেঁড়া করা আর এক৷ দ্বিতীয়টা করলেই বন্ধুদের মনে হবে মনে হবে আমি বিবাহিত জীবনে সুখি নই৷ ঝগড়াঝাঁটি সবার হয়, কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে আমি অসুখী!”

কিন্তু ফিটনেস এক্সপার্ট মেহের আদিরাজ লুবনার সঙ্গে একেবারেই একমত নন৷ মেহের মনে করেন নিজের স্বামীর বাজে অভ্যাসের কথা অন্য বান্ধবীকে বললে মোটেই সেটা বিশ্বাসভঙ্গ হয় না৷ বন্ধুর কাছে মন খুলে কথা না বলতে পারলে আর বন্ধুত্ব কীসের? তাঁর কথায় “আমরা তো বেডরুমের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ও আলোচনা করি৷ তার মধ্যে দোষের কিছুও খুঁজে পাই না৷ আমি আমার স্বামীকে ভীষণ ভালোবাসি এবং তিনিও জানেন সে কথা৷ বন্ধুদের সঙ্গে গসিপ করতে গিয়ে কী বললাম, তাতে তো ভালোবাসা মিথ্যে হয় না!’’

সমস্যা
এর ফলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হতে পারে৷ বরং সম্পর্কের উন্নতি চাইলে তার দুর্বল জায়গাগুলি নিয়ে, স্বামীর উপস্থিতিতেই অন্যান্য দম্পতি, যাঁরা আপনাদের বন্ধুও, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন৷ এর ফলে আপনি স্বামীর আড়ালেও তাঁর সমালোচনাও করলেন না আবার আপনারা দু’জনেই জানতে পারবেন, যে এই একই সমস্যায় অন্যরাও ভোগেন কিনা এবং কীভাবেই বা তার মোকাবিলা করা যাবে৷ মনে রাখবেন, প্রতিটি দম্পতির মধ্যেই খুব গোপন কিছু বিষয় থাকে, তা কারও সঙ্গে শেয়ার করা মানে অন্যের বিশ্বাস ভাঙা।
-ফেমিনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য