অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে থাকায় আট লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি ওই উপকূল থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ, খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজারের।

শুক্রবার বিকালের পরে কোনো এক সময় ওড়িশার পুরী শহরের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসতে পারে ফণী।

সে সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

সকালের দিকে ফণী উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে বিশাখাপত্তমের সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তম থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে এবং ওড়িশার পুরী থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

ওড়িশার ঊনিশটি জেলা, পশ্চিম বঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় তিনটি জেলায় ফণী আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

নিরাপত্তার স্বর্থে ভারতের ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে গত দুই দিনে মোট ১০৩টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে ।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ওড়িশায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পশ্চিম বঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের তিনটি জেলায়ও একই সতর্কর্তা জারি করা হয়েছে। ইস্যু করা এক বিশেষ বার্তা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে তারা।

ওই উপকূলীয় এলাকার জেলেদের ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ভূবনেশ্বর আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক এইচ আর বিশ্বাস বৃহস্পতিবার বলেছেন, “আজ ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের অধিকাংশ এলাকায় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভারি থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামীকাল ওড়িশার ১১টি উপকূলীয় জেলায় ও তৎসংলগ্ন ভিতরের জেলাগুলিতেও ভারি থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে।”

পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ওড়িশার উপকূলীয় গানজাম জেলা থেকে ১৮০ জন গর্ভবতী নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওড়িশার নিচু এলাকার আট লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে ৮৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র নেওয়া হচ্ছে, এর মধ্যে দুই লাখ মানুষকে এরই মধ্যে সরানো হয়েছে।

ওড়িশার উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বৃহস্পতিবার ২৬ লাখ ৩০ হাজার এসএমএস পাঠানো হয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট ৯৭ লাখ ৪০ হাজার এসএমএস পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

ঝড়ো হাওয়া থেকে বাঁচনোর জন্য পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ধ্বজা ২১ ফুট থেকে কমিয়ে সাত ফুট করার পরও সেটি রক্ষা করা যায়নি। ঝড়ো হাওয়ায় ওই নিচু ধ্বজাও উড়ে গেছে। ধ্বজা উড়ে যাওয়ার কারণে মন্দিরের পুজা বন্ধ রাখা হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য