দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে ডার্চ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ও বিকাশ লেনদেনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব গড়মিল দেখিয়ে ১ জন ব্যবসায়ীর ৩৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে ৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, মামলার অন্যতম আসামী কামরুজ্জামান খোকন (৩৪) মঙ্গলবার দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরুজ্জামান সরকারের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে এই মামলায় খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই আলমগীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আগামী ৭ মে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার অভিযোগে প্রকাশ, দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী মোঃ শামসুজ্জামান মানিক পোল্ট্রি ও সীস কোম্পানীর সিপির মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে ভুট্টা, চালের খুত ও গম সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল।

তার ব্যবসায়ী সুবিধার্থে ডার্চ বাংলা ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর বাজারে ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ডার্চ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন ভুট্টা ক্রয় পাটিকে টাকা পরিশোধ করেন।

গত বছর ১২ হতে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওসমানপুর মিতু মোবাইল সেন্টার ও ডার্চ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং মাধ্যমে ১ কোটি ৪২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা জমা করে। জমাকৃত টাকার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ভুট্টা মালিকদের পরিশোধ করে।

অবশিষ্ট ৩৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এজাহারকারী শামসুজ্জামান মানিককে প্রদান না করে ভুল তথ্য দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাত করে। এই ঘটনায় হাকিমপুর সহকারী পুলিশ সুপার ও দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং এবং এজাহারকারীর মধ্যে বৈঠকে হিসাবের মাধ্যমে ৩৭ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের তথ্য প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হয়।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত টাকা প্রদান না করায় মানিক বাদী হয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টর মালিক মিফতাউল ইসলাম মিতু (৩২), তার সহযোগী আবু সাঈদ (৩০), কামরুজ্জামান খোকন (৩৪), মীর জাহান আলী (৩০), সানোয়ার হোসেন (৩০) ও নুর আলম (৩৮)কে আসামী করে ঘোড়াঘাট এবং কোতয়ালী থানায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করা হয়।

ওই মামলায় আসামী খোকন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক উক্ত আদেশ দেন। অন্যান্য ৫ জন আসামী একটি মামলায় জামিন হলেও অপর মামলাটিতে পলাতক রয়েছে।

এব্যাপারে দিনাজপুর ডার্চ বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। মোবাইল ব্যাংকিং বিষয় তাদের অন্য একজন কর্মকর্তা দেখাশুনা করেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন এবং ব্যাংক এজেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য